প্রচণ্ড গরমে ত্বকের যত্ন নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে ঘাম, অন্যদিকে শুষ্কতা—দুইয়ের মাঝে ত্বক নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। অনেকেই ত্বকে আর্দ্রতা ফেরাতে তেল, ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করেন, কিন্তু এতে ঘাম আরও বেড়ে যায়। ফলে ত্বক দিন দিন আরও মলিন হয়ে পড়ে। তাই এমন মধ্যপন্থা বেছে নেওয়া উচিত, যা ঘামের ভয় কমাবে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনবে।
রাতের যত্নে সহজ টোটকা
দিনের বেলা ক্রিম ও লোশনের অস্বস্তি এড়াতে রাতের পরিচর্যায় ভরসা রাখতে পারেন। ঘরোয়া উপাদান দিয়ে তৈরি তিনটি প্যাক বা মাস্ক বানিয়ে নেওয়া যায়। এগুলো মেখে ধোয়ার প্রয়োজন নেই, সারারাত রেখে দিলেই হবে। সকালে উঠে ত্বক অনেক বেশি সতেজ ও কোমল মনে হবে।
১. কেশর ও অ্যালোভেরা মাস্ক
অ্যালোভেরা দীর্ঘদিন ধরে ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি ত্বকের প্রদাহ কমায়, তাপমাত্রা নামায় এবং শীতল অনুভূতি দেয়। পাশাপাশি আর্দ্রতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে। এর সঙ্গে কেশরের গুণ যোগ করলে আরও বেশি উপকার মেলে। কেশরে ভিটামিন 'সি' ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ত্বকের দাগছোপ দূর করতে পারে।
প্রয়োগ পদ্ধতি: ত্বক পরিচর্যার ২০ মিনিট আগে ৩-৪টি কেশর এক চামচ টাটকা অ্যালোভেরা রসে চুবিয়ে রাখুন। এতে কেশরের সক্রিয় যৌগগুলো জেলের মধ্যে প্রবেশ করবে। তারপর পাতলা করে সারা মুখে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
২. চন্দন ও গোলাপজল মাস্ক
সাধারণত চন্দনের ফেসপ্যাক পুরু করে মাখা হয়, কিন্তু সারারাত রেখে দিলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই এর সঙ্গে অল্প গোলাপজল মিশিয়ে নিন। এটি ত্বক সতেজ রাখে এবং গরমের অস্বস্তি কমায়। চন্দন ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
প্রয়োগ পদ্ধতি: এক চিমটে চন্দনগুঁড়োর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ গোলাপজল মিশিয়ে পাতলা করে মুখে মেখে নিন। সকালে উঠে ত্বক নরম হবে।
৩. কাঁচা দুধ মাস্ক
কাঁচা দুধে ল্যাকটিক অ্যাসিড থাকে, যা ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে পারে। কোনো রাসায়নিক ছাড়াই দুধ ত্বকের সুরক্ষাস্তর ভালো রাখে। ফোটানো দুধ নয়, ফ্রিজ থেকে বের করে কাঁচা দুধ ব্যবহার করুন। এটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে।
প্রয়োগ পদ্ধতি: এক চামচ কাঁচা ঠান্ডা দুধ তুলার বল দিয়ে মুখে ও গলায় মেখে রেখে দিন। ঠান্ডা ব্যবহার করলে ত্বক আরাম পাবে। সকালে উঠে ত্বকের মৃত কোষ ঝরে পড়ে ত্বক কোমল হবে।



