ওজন কমানোর পর চুলপড়া: কারণ ও সমাধান
ওজন কমানোর সময় দ্রুত ডায়েট পরিবর্তন বা পুষ্টির অভাবে চুলপড়া একটি সাময়িক সমস্যা, যা সাধারণত ৬-১২ মাসের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। এটি রোধ করতে প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও বায়োটিন সমৃদ্ধ সুষম খাবার গ্রহণ করা উচিত। তবে অতিরিক্ত কড়া ডায়েট এড়িয়ে চলুন এবং মানসিক চাপ কমিয়ে দিন।
কেন দেখা দেয় এই সমস্যা?
অনেকে তলপেট-কোমরের মেদ ঝরাতে ডায়েট ও শরীরচর্চা শুরু করেন এবং কয়েক মাসে ওজন কমিয়ে ফেলেন। কিন্তু ওজন কমলেই নতুন সমস্যা দেখা দেয়—চুলপড়া। ওজন কমে যাওয়ায় নিখুঁত ত্বক ও ঘন চুলের আশা করলেও উল্টোটা ঘটে। এই সমস্যা কেন দেখা দেয় এবং কীভাবে বন্ধ করবেন?
ওজন কমানোর তিন থেকে চার মাস পর অনেকেই চুলপড়ার সমস্যায় ভুগে থাকেন, যা টানা ছয় মাস পর্যন্ত চলতে পারে। এই অবস্থাকে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম বলে। এটি বেশি দিন স্থায়ী হয় না এবং শরীরে হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে দেখা দেয়।
হঠাৎ ওজন হ্রাস ও ক্যালোরি কমানোর প্রভাব
হঠাৎ ওজন হ্রাস পেলে বা ক্যালোরি গ্রহণ একদম কমিয়ে দিলে শরীর প্রচণ্ড ধাক্কা খায়। তখন শরীর প্যানিক বাটন অন করে এবং সারভাইভাল মোড চলে যায়। এই অবস্থায় শরীর মনে করে চুলের বৃদ্ধির চেয়ে হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের শক্তি সঞ্চয় করা বেশি জরুরি। এর জেরেও চুল পড়ে যেতে পারে।
প্রোটিনের ঘাটতি ও কেরাটিন নষ্ট হওয়া
চুল কেরাটিন নামক প্রোটিন দিয়ে গঠিত। শরীরের ভেতরের বা বাইরের কোনো পরিবর্তন হলে কেরাটিন নষ্ট হয়ে যায়, ফলে চুলে পর্যাপ্ত পুষ্টি পৌঁছায় না এবং চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। তবে এটি হঠাৎ একদিনে নয়, বরং ওজন কমানোর তিন থেকে চার মাস পর প্রকাশ পায়।
পুষ্টির অভাব ও মেটাবলিক শক
ওজন কমানোর সময় অনেকে খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানেন। তখন যদি পাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিংক, বায়োটিন এবং ভিটামিন এ, সি, ডি, ই ও বি১২-এর ঘাটতি থাকে, তবে চুলপড়ার সমস্যা বাড়ে। এছাড়া মেটাবলিক শক চুলপড়ার আরেকটি কারণ।
হরমোনের তারতম্য
ওজন কমানোর সময় শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটে, বিশেষ করে ইনসুলিন, ইস্ট্রোজেন, টেস্টোস্টেরন ও থাইরয়েড হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন আসে। এর জেরেও চুলপড়া বেড়ে যায়।
কীভাবে বুঝবেন ওজন কমানোর জন্যই চুল পড়ছে?
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি-র গবেষণা অনুসারে, প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০টি চুলপড়া স্বাভাবিক। কিন্তু ওজন কমানোর পর চিরুনি বা শ্যাম্পু করার সময় অতিরিক্ত চুল পড়লে বুঝবেন আপনি টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের শিকার।
সমাধান ও প্রতিকার
টেলোজেন এফ্লুভিয়াম সাময়িক এবং সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যায়। তবে মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়লে ডায়েটে নজর দেওয়া জরুরি। শরীরে কোনো পুষ্টির ঘাটতি আছে কিনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করলে আবার নতুন চুল গজাবে। মানসিক চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও চুলের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।



