গরম পানিতে পা ডুবিয়ে স্ট্রোক প্রতিরোধ: পুষ্টিবিদের দাবি ও চিকিৎসকের মত
গরম পানিতে পা ডুবিয়ে স্ট্রোক প্রতিরোধ: পুষ্টিবিদের দাবি

বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের সাবেক পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি জাপানি কৌশল শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে ১৫-২০ মিনিট গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে চিকিৎসকরা এই দাবির বিরোধিতা করে বলেছেন, এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মতভাবে স্ট্রোক প্রতিরোধের কোনো নিশ্চিত উপায় নয়।

পুষ্টিবিদের পরামর্শ

শ্বেতা শাহ তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বলেন, 'স্ট্রোক প্রতিরোধের একটি জাপানি রহস্য আছে। এটি খুব সাধারণ একটি বিষয়। তারা শুধু ১৫-২০ মিনিটের জন্য গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখেন। আমি ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব প্রত্যেককে এটি অনুসরণ করার পরামর্শ দেব। এর পেছনে বড় বিজ্ঞান রয়েছে। এটি রক্তনালি প্রসারিত করতে সাহায্য করে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং শরীরকে শান্ত করে। এটি মানসিক চাপ কমায়। ইপসম সল্ট ব্যবহার করলে ঘুমও ভালো হয়।'

চিকিৎসকদের মতামত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে রক্ত সঞ্চালন সামান্য উন্নত হয় এবং মানসিক চাপ কমে, কিন্তু এটি সাময়িক। হৃদরোগের মতো ক্রনিক অসুখের সঙ্গে লড়াই করতে এই থেরাপি খুব বেশি সাহায্য করে না। স্ট্রোক ঘটে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটার কারণে, যেখানে ইপসম সল্ট বা গরম পানির কোনো প্রভাব নেই।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্ট্রোকের মূল কারণ

স্ট্রোক একটি গুরুতর মেডিকেল ইমার্জেন্সি, যা মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টির কারণে ঘটে। এর পেছনে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, ধূমপানের মতো বিষয়গুলো দায়ী। এ সমস্যাগুলো রোধ করতে পারলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।

সতর্কতা

যাদের ডায়াবেটিস বা পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি আছে, তাদের গরম পানিতে পা ডুবানো এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ পায়ের কম অনুভূতি থাকার কারণে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া যাদের ভেরিকোজ ভেইন বা হার্ট ফেইলিওরের সমস্যা আছে, তাদের দীর্ঘক্ষণ গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখা উচিত নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্ট্রোক প্রতিরোধে SMART কৌশল

চিকিৎসকরা স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য 'SMART' কৌশল মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

  • S for Stop smoking: ধূমপান ত্যাগ করা। সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে এই অভ্যাস ছাড়তেই হবে।
  • M for Meals: স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি। জাঙ্ক ফুড, ভাজাভুজি এড়িয়ে চলাই ভালো।
  • A for Active lifestyle: অলস জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটার মতো শরীরচর্চা হার্ট ভালো রাখে।
  • R for Regular checkups: নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা জরুরি। রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, সুগার ও হার্টের অবস্থা নিয়মিত যাচাই করা দরকার।
  • T for Treatment adherence: হার্টের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের কথামতো চলাই ভালো।

গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখার কৌশলটি জাপান ও চীনে জনপ্রিয় এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হলেও, এটি স্ট্রোক প্রতিরোধে কোনো বিকল্প নয়। বরং জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর।