বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ‘মা দিবস’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বাস্তব জীবন সবখানেই মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তবে এই বিশেষ দিনে মা ও সন্তানের বর্তমান সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান দূরত্ব নিয়ে আবেগঘন ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী গুলশান আরা আক্তার চম্পা।
মা দিবস কেন শুধু একটি দিন?
চম্পা মনে করেন, মায়ের প্রতি ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডারের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তার মতে, মায়ের স্থান সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'মা তো মা-ই, তার ওপরে আর কিছু হতে পারে না। মা দিবস শুধু একটি দিন কেন হবে?' তিনি আরও বলেন, সবার উচিত মাকে যথাযথ সম্মান করা এবং প্রতিদিন তাকে ভালোবাসা ও যত্ন নেওয়া।
শৈশবের স্মৃতি ও বর্তমান বাস্তবতা
শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে এই অভিনেত্রী বর্তমানে মা-সন্তানের সম্পর্কের শীতলতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি আধুনিক জীবনযাত্রায় প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে বলেন, 'আগে মানুষ মায়ের হাত ধরে হাঁটত, কিন্তু এখন মায়ের হাত ছেড়ে মোবাইল হাতে নিয়ে হাঁটে, যা একদমই ঠিক নয়।' চম্পার মতে, হাতের স্মার্টফোনটি মানুষের অজান্তেই পরিবারের বড়দের থেকে, বিশেষ করে মায়ের কাছ থেকে মানসিক দূরত্ব তৈরি করছে।
মায়ের কাছে ফেরার আহ্বান
এই যান্ত্রিক ব্যস্ততা ছেড়ে সবাইকে মায়ের কাছে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বর্তমান প্রজন্মের প্রতি বেশ কিছু অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মায়ের হাত কখনো ছাড়া উচিত নয় এবং তাকে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। এছাড়া ঘরের কাজে মাকে সাহায্য করা এবং তার আদর্শ নিজের জীবনে ধারণ করার পরামর্শ দেন তিনি। চম্পা আরও মনে করেন, মায়েদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা সন্তানের ভবিষ্যতের পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই মায়েদের অভিজ্ঞতাকে অবহেলা না করে তা থেকে শিক্ষা নেওয়া বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি।
শ্রেষ্ঠ উপহার সময় ও সম্মান
মা দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি মনে করিয়ে দিলেন, শ্রেষ্ঠ উপহার দামি কোনো বস্তু নয়, বরং মাকে দেওয়া কিছুটা সময় এবং আন্তরিক সম্মান। চম্পার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং অনেককেই পারিবারিক বন্ধন নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।



