ঢাকার বায়ু মান 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর', বিশ্বের ১৬তম দূষিত শহর
ঢাকার বায়ু মান অস্বাস্থ্যকর, বিশ্বে ১৬তম দূষিত শহর

ঢাকার বায়ু মান 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিতে

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সোমবার সকালে ১৬তম স্থান দখল করেছে। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ১০৩ রেকর্ড করা হয়েছে, যা 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিভুক্ত।

বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরগুলো

একিউআই সূচকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের দিল্লি ২১০ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ১৬৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় এবং থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই ১৬৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে।

একিউআই শ্রেণিবিভাগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের শ্রেণিবিভাগ অনুসারে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ৫০ থেকে ১০০: মধ্যম মানের বায়ু
  • ১০১ থেকে ১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর
  • ১৫১ থেকে ২০০: অস্বাস্থ্যকর
  • ২০১ থেকে ৩০০: অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর
  • ৩০০-এর উপরে: বিপজ্জনক

ঢাকার বর্তমান স্কোর ১০৩ হওয়ায় শহরের বায়ু সংবেদনশীল গোষ্ঠী—যেমন শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশে একিউআই পরিমাপের পদ্ধতি

বাংলাদেশে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স পাঁচটি প্রধান দূষণকারী উপাদানের ভিত্তিতে গণনা করা হয়:

  1. পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ ও পিএম২.৫)
  2. নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও₂)
  3. কার্বন মনোক্সাইড (সিও)
  4. সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও₂)
  5. ওজোন

এই সূচক দৈনিক বায়ুর মান প্রতিবেদন করে, যা বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত তা নির্দেশ করে এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সমস্যার সাথে লড়াই করছে। শহরের বায়ুর মান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষার বৃষ্টিপাতের সাথে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়, যার প্রধান কারণগুলো হলো স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ।

এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীকে বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখা, মাস্ক ব্যবহার এবং বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন।