বায়ুদূষণে ঢাকা বিশ্বের চতুর্থ স্থানে, বিশেষজ্ঞরা উদ্যোগের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
আজ রোববার সকালে বিশ্বের ১১৯টি নগরীর মধ্যে বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকা চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
এপ্রিল মাসেও বায়ুর মানের অবনতি: স্বাভাবিক প্রবণতা থেকে বিচ্যুতি
এপ্রিল মাসের অর্ধেকটা পার হয়ে গেলেও ঢাকার বায়ুর মান উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণত এই সময়ে বায়ুর মান কিছুটা ভালো থাকে, কিন্তু চলতি মাসে প্রায় প্রতিদিনই বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বায়ুদূষণ কমানোর জন্য নতুন কোনো তৎপরতা বা কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য: সরকারি উদ্যোগে গতানুগতিকতা ও লক্ষ্যের অভাব
বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, 'বায়ুদূষণ কমাতে গতানুগতিকতার বাইরে নতুন কোনো উদ্যোগ দেখছি না। তেমন কোনো তৎপরতাও নেই। বায়ুদূষণ কমাতে কোনো লক্ষ্য বা কর্মপরিকল্পনা আছে বলেও মনে হয় না।' তাঁর এই মন্তব্য সরকারি পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
আজকের বায়ুর মান ও শীর্ষ দূষিত এলাকাগুলো
আজ সকাল নয়টার দিকে ঢাকার বায়ুর মান ছিল ১৫৭, যা মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত। একই সময়ে, আইকিউএয়ারে ৪০৮ মান নিয়ে শীর্ষে ছিল ভারতের দিল্লি। ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষিত এলাকা হিসেবে শনাক্ত হয়েছে:
- পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি: বায়ুমান ১৬৬
- উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগ: বায়ুমান ১৪৪
- দক্ষিণ পল্লবী: বায়ুমান ১৩৯
- বারিধারা পার্ক রোড: বায়ুমান ১৩৪
প্রাকৃতিক উপায়েও দূষণ কমছে না: বৃষ্টির অভাব একটি কারণ
ঢাকাসহ দেশের বায়ুদূষণ কমাতে একের পর প্রকল্প এবং নানা কথা বলা হলেও দূষণ কমছে না। এই নগরীর দূষণ কমানোর 'প্রাকৃতিক উপায়' হলো বৃষ্টি। সাধারণত এপ্রিল বা মে মাসে ঝড়বৃষ্টি বাড়ে, যা দূষণ কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু এবার সেই বৃষ্টিও কম হচ্ছে, ফলে দূষণ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে না।
নগরবাসীর জন্য সুরক্ষা পরামর্শ
আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকায় বায়ুর যে মান রয়েছে, তাতে নগরবাসীকে নিম্নলিখিত সতর্কতা মেনে চলতে হবে:
- বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে।
- বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে, যাতে দূষিত বায়ু ভেতরে প্রবেশ না করে।
বায়ুদূষণের এই ক্রমাগত সমস্যা পরিবেশগত সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের জন্য জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে।



