রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত বৃষ্টি, হঠাৎ বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত বৃষ্টি

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত বৃষ্টি, হঠাৎ বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ

গতকাল বুধবার রাত আটটার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা জারি করেছিল, যাতে বলা হয়েছিল পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রাত দশটার পর থেকেই রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হয়, যা আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সকাল সাড়ে আটটার দিকে হালকা রোদ উঠলেও তা দ্রুত মিলিয়ে যায়, আকাশ আবার মেঘে ঢেকে পড়ে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ও বর্তমান অবস্থা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক আজ সকালে জানিয়েছেন, রাজধানী ছাড়াও দেশের প্রায় সর্বত্রই বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে সকাল থেকেই বৃষ্টি অব্যাহত আছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলগুলোতে দিনের বিভিন্ন সময় বৃষ্টি হতে পারে এবং শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক আরও স্পষ্ট করে বলেন, রাজধানীর কাছাকাছি মেঘের একটি সেল অবস্থান করছে, যা দুপুর ১২টার পর আবারও আকাশ মেঘলা করে তুলতে পারে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা অব্যাহত রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও প্রভাব

গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীতে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সকাল ছয়টা থেকে আটটা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সঠিক পরিমাণ এখনো হিসাব করা হয়নি। অন্যান্য অঞ্চলের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, গত ১২ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় ৪৬ মিলিমিটার, যশোরে ২৭ মিলিমিটার, নিলফামারীর ডিমলায় ৩১ মিলিমিটার এবং গোপালগঞ্জে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই হঠাৎ বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর অফিসগামী মানুষরা সকালে ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন। অনেকেই ছাতা নিয়ে বের হলেও রাস্তায় যানজটের মাত্রা কিছুটা বেড়ে গেছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও বৃষ্টিতে ভিজে অস্বস্তিতে পড়েছেন, যা তাদের দৈনন্দিন রুটিনকে ব্যাহত করেছে।

ভবিষ্যত পূর্বাভাস ও সতর্কতা

আবহাওয়া অধিদপ্তর ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন কোনো সতর্কবার্তা জারি করতে পারে। জনসাধারণকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, বাইরে বের হওয়ার সময় আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং প্রয়োজনে রেইনকোট বা ছাতা ব্যবহার করতে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

এই মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাত ও কালবৈশাখী সাধারণ ঘটনা হলেও, এর প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা যেতে পারে।