সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকীতে নারীর প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান
সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকীতে নারীর প্রতি ঘৃণার প্রতিবাদ

কবি সুফিয়া কামালের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক বক্তৃতা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শনিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এই আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

নারীর প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে ঐক্যের ডাক

সমাজে এখনো নারীর প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় নারীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ এখন স্বীকৃত সামাজিক বাস্তবতা। এর উদ্দেশ্য নারীকে চুপ করিয়ে দেওয়া, জনপরিসর থেকে সরিয়ে দেওয়া। এর বিরুদ্ধে নারী–পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে দাঁড়াতে হবে।

‘নারীর প্রতি বিরাজমান ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা নিরসনে সুফিয়া কামালের আলোয় পথচলা’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্মারক বক্তৃতায় সুফিয়া কামালের নৈতিক নাগরিকত্বের ধারণা

এই আয়োজনে স্মারক বক্তৃতা পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা। সুফিয়া কামালের নারীবাদকে কেবল অধিকারভিত্তিক নারীবাদ হিসেবে পড়লে তার প্রকৃত গুরুত্ব ধরা পড়ে না উল্লেখ করে স্মারক বক্তৃতায় বলা হয়, তাঁর চিন্তার কেন্দ্রে ছিল নৈতিক নাগরিকত্বের ধারণা। নৈতিক নাগরিকত্ব বলতে এমন এক সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে নাগরিকত্ব কেবল আইনি অধিকারের মাধ্যমে নয়, বরং পারস্পরিক মর্যাদা, স্বীকৃতি, যত্ন, সহমর্মিতা এবং মানবিক দায়িত্বের ভিত্তিতে গঠিত হয়।

সুফিয়া কামাল নারীর জন্য সহানুভূতি চাননি উল্লেখ করে স্মারক বক্তৃতায় বলা হয়, তিনি নারীর পূর্ণ মানবিক স্বীকৃতি দাবি করেছিলেন। সুফিয়া কামাল নারীর সুরক্ষা চাননি, তিনি নারীর কণ্ঠ, চিন্তা এবং উপস্থিতির বৈধতা দাবি করেছিলেন। তাঁর সংগ্রাম আইনি অধিকারের জন্য ছিল না, ছিল নারীকে পূর্ণ নৈতিক ও রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুফিয়া কামাল সম্মাননা প্রদান

এই আয়োজনে বরেণ্য চিত্রশিল্পী মো. আবুল হাশেম খানকে সুফিয়া কামাল সম্মাননা প্রদান করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সম্মাননা গ্রহণের পর চিত্রশিল্পী হাশেম খান বলেন, নারীর শক্তি বেড়েছে, নারী শিক্ষিত হয়েছে, নারী কর্মক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। কিন্তু বিপ্লবের পরপরই শোনা যায়—নারীদের আর ঘরের বাইরে যাওয়ার দরকার নেই। এত বছর পর, এত কিছু অধিকার করে, দুজন নারী যখন এ দেশে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন ছিলেন, তারপর এখনো সেই নারীর প্রতি ঘৃণা! দেশ কোথায় যাচ্ছে, সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্য ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা

এই আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। সমাজে নারীর প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে ফওজিয়া মোসলেম বলেন, এটা করা হচ্ছে নারীকে ভীতসন্ত্রস্ত করার জন্য, নারীর আন্দোলনকে খর্ব করার জন্য। এর বিরুদ্ধে নারী–পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে দাঁড়াতে হবে। জুলাইয়ের পরিবর্তনের পর থেকে এটা (নারীর প্রতি ঘৃণা ছড়ানো) দ্রুত ঘটেছে।

এই আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।

প্রামাণ্যচিত্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সুফিয়া কামালের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর সুফিয়া কামালের ওপর নির্মিত ‘একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণে জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল’ শিরোনামে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। এই প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক শামীম আখতার বক্তব্য দেন।

এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ইফ্ফাত আরা দেওয়ান এবং ছায়ানটের শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক খুরশীদা ইমাম এবং প্রকাশনা সম্পাদক সারাবান তহুরা।