মায়ের কাছে চিরকাল ছোট থাকতে চাই
মায়ের কাছে চিরকাল ছোট থাকতে চাই

আমাদের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলায়। আমার মা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। যখন আমি প্রাইমারি স্কুল শেষ করে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, তখন মাকে ছেড়ে ঢাকায় চলে আসি পড়াশোনার জন্য। উন্নত পরিবেশ ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য মা বুঝিয়ে-শুনিয়ে পাঠিয়ে দেন।

একমাত্র সন্তান, তবু স্বপ্নের পথে পাঠানো

মায়ের একমাত্র সন্তান আমি। তবু স্বপ্ন ও খুব কষ্ট নিয়ে আমাকে পাঠান। তখন বুঝতে পারিনি তাঁর ভেতরের কষ্ট কতটুকু। বড় ছিলাম না, তাই আমিও আমার কষ্ট পরিমাপ করতে পারতাম না; এখন পারি।

মনে আছে, ঢাকায় আসার আগে শেষ যে রাতে মায়ের পাশে ঘুমিয়েছিলাম, তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘মিষ্টু, তুমি কখনো আমার কাছে বড় হয়ে যেয়ো না। এখন যেমন আমাকে লেপটে ধরে ঘুমাও, আমার শরীরের ঘ্রাণ নাও, আমার উপস্থিতিতে শান্তি খুঁজে পাও, ঠিক এমনই থেকো।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তখন আমি কথাটা ভালোভাবে বুঝতে পারতাম না যে মা আমাকে কী বোঝাল। কিন্তু এতটুকু বুঝেছিলাম যে মায়ের কাছে সব সময় ছোট থাকতে হবে।

এখনো ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর মতো

এখন আমি অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এখনো যখন বাড়িতে যাই, মায়ের কাছে ঠিক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর মতোই থাকি। মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমানো, মায়ের উষ্ণতায় শান্তি খোঁজা— কোনোটাই বাদ দিই না।

তবে আমার মা আগের তুলনায় ধৈর্য অনেকটা হারিয়ে ফেলেছেন। এখন আমাকে ছাড়া থাকতেই চান না। বাড়িতে গেলে আসতে দিতে চান না। আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমার তো বাচ্চাটাকে আদর করার সাধই মিটল না। থাক, পড়াশোনা করার দরকার নেই আর, আমার কাছেই থাকো।’

এখনো আমি তাঁর সেই ছোট্ট বাচ্চা। আমি সারা জীবন এ রকম বাচ্চা হয়ে থাকতে চাই। কখনো চাই না আমার মায়ের কাছে বড় হতে। ভালো থাকুক আমার মা। ভালো থাকুক পৃথিবীর সব মা।

লেখক: সহসভাপতি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বন্ধুসভা

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ