গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন ও জরায়ুর চাপের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা। এই সমস্যা দূর করতে খাদ্যতালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার, টকদই ও পর্যাপ্ত পানি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম ও পুষ্টিকর খাবারও উপকারী।
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ ও ঝুঁকি
গর্ভাবস্থায় প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে পরিপাকের হার ধীর হয়ে যায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সৃষ্টি করে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ ঠিক নয়, কারণ এতে মৃত্যুঝুঁকি ও গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রোবায়োটিকের ভূমিকা
আধুনিক জীবনযাত্রায় প্রি-টার্ম ডেলিভারি একটি বড় সমস্যা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পল্লবী ভসল জানান, প্রোবায়োটিক এই ঝুঁকি কমাতে পারে। দই, ইয়োগার্ট বা প্রোবায়োটিক দুধের মতো খাবার অন্তঃসত্ত্বাকালে ডায়েটে রাখলে তা প্রি-টার্ম ডেলিভারির ঝুঁকি হ্রাস করে।
পল্লবী ভসল আরও বলেন, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা পুষ্টির শোষণ কমিয়ে দেয়, যার ফলে পুষ্টির ঘাটতি, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি ও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দেখা দেয়। প্রোবায়োটিক পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং অন্ত্রের ব্যাক্টেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখে।
প্রোবায়োটিকের উৎস ও সতর্কতা
ঘোল, গেঁজানো বা ফারমেন্টেড খাবার, দই ও প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট প্রোবায়োটিকের সাধারণ উৎস। তবে প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শরীরে পুষ্টি শোষণ বাড়লে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ভ্রূণের বৃদ্ধি ভালো হয়।
সঠিক ডায়েটের গুরুত্ব
পল্লবী ভসল বলেন, 'আপনি যা খান, তার ওপরই নির্ভর করে আপনার সন্তানের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা।' তাই হবু মায়ের পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখা জরুরি, যাতে পুষ্টি উপাদান ভালোভাবে শোষিত হয়। ফাইবার, পানি ও প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ ডায়েট গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।



