প্রচণ্ড গরমে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অনেকের জন্যই এটি একটি অপরিহার্য যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তবে এসি কেনার আগে বেশিরভাগ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ থাকে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক মডেল নির্বাচন এবং কিছু সাধারণ সচেতনতা অবলম্বনের মাধ্যমে সহজেই বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব।
স্টার রেটিং-এর ভূমিকা
একই ক্ষমতার সব এসির বিদ্যুৎ খরচ এক নয়। মূল পার্থক্যটি তৈরি করে ‘স্টার রেটিং’। বাজারে প্রচলিত ‘থ্রি-স্টার’ এবং ‘ফাইভ-স্টার’ এসির মধ্যে ফাইভ-স্টার মডেল তুলনামূলকভাবে অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং দীর্ঘমেয়াদে বেশি সাশ্রয় দেয়। বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, একটি দেড় টনের ফাইভ-স্টার এসি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ০.৮ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। প্রতিদিন আট ঘণ্টা চালালে মাসিক খরচ তুলনামূলকভাবে কম হয়। অন্যদিকে, থ্রি-স্টার এসিতে একই ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যার ফলে বছরে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত বিল গুনতে হতে পারে।
ইনভার্টার প্রযুক্তি
বিশেষজ্ঞরা ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। সাধারণ এসি বারবার চালু ও বন্ধ হয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে; কিন্তু ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে বিদ্যুৎ কম লাগে এবং মেশিনের আয়ুও বাড়ে।
অন্যান্য সাশ্রয়ী টিপস
এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা, দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা এবং নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করাও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সামান্য সচেতনতাই মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে।
সঠিক মডেল নির্বাচন, ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আপনি আরামের সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচও কমাতে পারবেন।



