চাঁদপুরে আঙুর চাষে সাফল্য কামরুজ্জামানের
চাঁদপুরে আঙুর চাষে সাফল্য কামরুজ্জামানের

একসময় যা ছিল নিছক কল্পনা, আজ তা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন চাঁদপুরের এক অদম্য সাহসী উদ্যোক্তা। নদীবেষ্টিত এই জেলার মাটিতে মিষ্টি আঙুরের সমারোহ ঘটিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কামরুজ্জামান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘প্রধানিয়া এগ্রো’ এখন কেবল একটি ফলের বাগান নয়, বরং জেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর।

যাত্রার শুরু

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাট কালিভাংতি এলাকার বাবুরহাট-মতলব সড়কের পাশেই এই আঙুর সাম্রাজ্য। তবে সাফল্যের পথ মসৃণ ছিল না। ২০২৪ সালে ১৮ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করেন কামরুজ্জামান। শুরুর দিকে চারা কিনতে গিয়ে বারবার প্রতারিত হয়েছেন, গুনতে হয়েছে লোকসানের টাকা। কিন্তু দমে যাননি তিনি। জেদ ছিল—চাঁদপুরের মাটিতেই ফলাবেন বিদেশি এই ফল।

বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে কামরুজ্জামানের মোট তিনটি বাগান রয়েছে, যার আয়তন প্রায় দেড় একর। এর মধ্যে একটি ১৮ শতক, আরেকটি ৬০ শতক ও অন্যটি ২০ শতক জমিতে; সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ চলছে। এখন আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উৎপাদন ও আয়

কামরুজ্জামান জানান, তাঁর বাগানে বর্তমানে শতাধিক জাতের আঙুর চারা রয়েছে। বছরে বাণিজ্যিকভাবে দুইবার ফলন পাওয়া যায়। বাগানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বার্ষিক বিক্রয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। বার্ষিক ব্যয় ১০ লাখ টাকার মতো।’ পাঁচজন নিয়মিত শ্রমিকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছেন তিনি।

দর্শনার্থীদের ভিড়

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু চাঁদপুর নয়, পাশের লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন এই আঙুরবাগান দেখতে এবং চারা সংগ্রহ করতে। অনলাইন থেকে খবর পেয়ে রায়পুর থেকে আসা ফরিদ হোসেন বলেন, ‘অনলাইনে দেখে আগ্রহ জন্মেছে। প্রাথমিকভাবে কিছু চারা নিচ্ছি। সফল হলে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করব।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নারী উদ্যোক্তার আগ্রহ

এক নারী উদ্যোক্তা জানান, তিনি পরীক্ষামূলক চাষের জন্য বেশ কিছু জাতের চারা সংগ্রহ করেছেন। সফল হলে বড় পরিসরে বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

তরুণদের জন্য বার্তা

তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে কামরুজ্জামান বলেন, ‘নিজে যখন শুরু করেছিলেন, তখন পরামর্শ দেওয়ার মতো কেউ ছিল না। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এখন নতুনদের পাশে দাঁড়াতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘তরুণেরা চাইলে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করতে পারে। আমি তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফলন ভালো করার সব ধরণের পরামর্শ দেব।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর বিক্রি শুরু হবে বলে জানান এই সফল উদ্যোক্তা। চাঁদপুরের মতো মফস্‌সল এলাকায় আঙুরের এমন বাম্পার ফলন দেখে অভিভূত এলাকাবাসীও।

প্রথাগত কৃষির বাইরে গিয়ে কামরুজ্জামানের এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রমাণ করে—সঠিক লক্ষ্য আর ধৈর্য থাকলে মাটির প্রকৃতি বদলে দিয়েও অসাধ্য সাধন করা সম্ভব।