গরমে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে যা খাবেন
গরমে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে যা খাবেন

গরমের তীব্রতায় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে শসা, তরমুজ, ডাব, টকদই, লেবুর শরবত, পুদিনা পাতা, লাউ এবং মৌসুমি রসালো ফল বেল ও বাঙ্গি নিয়মিত খাওয়া জরুরি। এসব খাবার শরীর শীতল রাখে, ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করে এবং পরিপাকক্রিয়ায় সহায়তা করে। অন্যদিকে, ভারি ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।

কেন ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ?

গরমের দিনে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম ঝরে, যার ফলে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। এতে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা।

ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখার খাবার

ডাবের পানি

ডাবের পানি শরীরে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের জোগান দেয়। এটি পানিশূন্যতা দূর করে এবং প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে। গরমে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে নিয়মিত ডাবের পানি খাওয়া উচিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লেবুর শরবত

গরমে অতিরিক্ত ঘামলে শরীর থেকে সোডিয়াম বেরিয়ে যায়, ফলে রক্তচাপ কমে যায়। লেবুর শরবতের সঙ্গে সামান্য লবণ ও চিনি মিশিয়ে খেলে রক্তে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য দ্রুত ফিরে আসে। এ পানীয় ভিটামিন 'সি'র চাহিদা মিটিয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।

ঘোল

গরমের দিনে অন্যতম সেরা পানীয় হচ্ছে ঘোল। এটি প্রোবায়োটিকে ভরপুর। ঘোলের মধ্যে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খেলে শরীরের সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণ হয়। দুপুরের রোদে বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এক গ্লাস ঠান্ডা ঘোল শরীরে সতেজতা ফিরিয়ে আনে।

তাজা ফলের রস

প্রচণ্ড গরমে তাজা ফলের রস শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেয় এবং খনিজ লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে প্যাকেটজাত ফলের রস এড়িয়ে চলা উচিত। চিনি ছাড়া ফলের রস খেলে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা বজায় থাকে এবং হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তরমুজ

গ্রীষ্মে শরীর হাইড্রেট রাখতে তরমুজ অত্যন্ত কার্যকর। এতে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি থাকে, যা হাইড্রেটেড থাকার আদর্শ উপায়। তরমুজের ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম পেশির টান বা ক্র্যাম্প কমাতে সাহায্য করে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস

যারা দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করেন, তাদের স্যালাইন খাওয়া জরুরি। এটি সোডিয়াম ও শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। সুস্থ থাকতে দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করুন।