মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নতুন মাত্রা: ওয়ালিউল ইসলামের 'একাত্তরের ইতিকথা' বই প্রকাশ
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নতুন মাত্রা: 'একাত্তরের ইতিকথা'

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নতুন মাত্রা: ওয়ালিউল ইসলামের 'একাত্তরের ইতিকথা' বই প্রকাশ

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখক ওয়ালিউল ইসলামের নতুন বই 'একাত্তরের ইতিকথা' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের জনযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র, প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের জন্য বইটিকে ব্যতিক্রমী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বইটির গুরুত্ব ও বিশ্লেষণ

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বইটিকে ব্যতিক্রমী বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'লেখকের গভীর বিশ্লেষণ, তথ্য, তত্ত্ব ও অসাধারণ রসবোধ পাঠককে আগ্রহী করে তুলবে। মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ। যুদ্ধের জন্য একটি জাতি কীভাবে জেগে উঠেছিল, প্রশাসনিকভাবে কার কেমন ভূমিকা ছিল, আবার প্রশাসনে ভেতরের দ্বন্দ্ব–সংঘাত, কলকাতায় প্রবাসী সরকারের কার্যক্রম কেমন করে পরিচালিত হচ্ছিল, এসব অনেক বিষয় এতে আছে।'

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বইটিতে প্রচুর তথ্য, বইয়ের উদ্ধৃতি, মানুষের ভূমিকা ও প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপনের কথা বলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় সিএসপি অফিসার হিসেবে মাগুরা মহকুমা প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন ওয়ালিউল ইসলামের দ্বিধা ও পরে সরাসরি অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। মতিউর রহমান আরও বলেন, 'লেখক দেখিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কীভাবে রাজনীতির ভেতরে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছিল। মুজিব বাহিনীসহ একটি অংশ প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে মেনে নিতে পারেনি। এই বিভেদ–বিরোধ স্বাধীনতার পরেও চলমান ছিল।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বক্তাদের মূল্যায়ন

নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরিন পারভীন হক মুক্তিযুদ্ধে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে শুধু গুটিকয় শিক্ষিত মানুষই অংশ নেননি। অনেক কৃষকের সন্তানেরাও অংশ নিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কোনো বই লেখেননি। বই লিখেছেন শিক্ষিতজনেরা। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত বেশি বই প্রকাশিত হবে, এই জনযুদ্ধ সম্পর্কে তত বেশি জানার সুযোগ সৃষ্টি হবে।' তিনি বীরাঙ্গনাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, তাঁদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি, অনেকেই সরকারি ভাতাপ্রাপ্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি।

সাবেক সচিব মোহাম্মদ আলী বইটিকে অত্যন্ত তথ্যবহুল বলে বর্ণনা করেন। তিনি ওয়ালিউল ইসলামের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বইটির গুরুত্ব তুলে ধরেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক খায়রুল ইসলাম বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রায় প্রত্যেক জেনারেল ও আমলা তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লিখেছেন। সেই বইগুলোতে প্রধানতই 'আমি করেছি', 'আমি করেছিলাম' এভাবেই নিজের কৃতিত্বকে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ওয়ালিউল ইসলাম নিজেকে প্রচ্ছন্ন রেখেছেন। তাঁর ভাষা, 'আমি কী দেখেছি' এমন।'

লেখকের প্রতিক্রিয়া

লেখক ওয়ালিউল ইসলাম বইটি সম্পর্কে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, 'আমি যা জেনেছি, তা যদি পরের প্রজন্মের কাছে জানিয়ে যেতে না পারি, তবে তা হারিয়ে যাবে। এই ভাবনা থেকেই বইটি লেখা। লেখক হিসেবে বিশেষ কোনো বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করিনি। যা দেখেছি, যা সত্য বলে মনে করেছি তুলে ধরেছি। তবে আমার বিবেচনায় যা সত্য, তা হয়তো অনেকের কাছে সত্য না–ও মনে হতে পারে।'

এসএমসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন খান বলেন, ওয়ালিউল ইসলাম এসএমসির চেয়ারম্যান ছিলেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতা বইটিতে প্রতিফলিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে মাওলা ব্রাদার্স, যার পক্ষে বক্তব্য দেন শাহরিন হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. তেহারীন ও হোসনে আরা।