আমজু মিয়ার বলীখেলা: চট্টগ্রামের লোকজ ঐতিহ্যের সাক্ষী
আমজু মিয়ার বলীখেলা: চট্টগ্রামের লোকজ ঐতিহ্যের সাক্ষী

আমজু মিয়ার বলীখেলার স্মৃতি আজও ভোলেননি চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দারা। একসময় বৈশাখ মাস এলেই জমে উঠত এই খেলা। ঢাকঢোলের তালে তালে শুরু হতো বলীখেলা, আর মাঠের চারপাশে হাজারো দর্শক ভিড় করতেন।

বলীখেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বলীখেলা চট্টগ্রামের প্রাচীন লোকজ ক্রীড়া। গবেষক আবদুল হক চৌধুরীর মতে, চট্টগ্রামের ২২টি মল্ল পরিবার ইতিহাস বিখ্যাত। মল্ল শব্দের অর্থ কুস্তিগির, আর বলী হলো খালি হাতে কুস্তি ধরা। ব্রিটিশ আমল থেকে পটিয়ায় বলীখেলার আয়োজন হয়ে আসছে। বিত্তবানেরা মাইকিং করে ঢাকঢোল পিটিয়ে এই খেলার আয়োজন করতেন।

আমজু মিয়ার বলীখেলার সূচনা

আমজু মিয়া সওদাগর ১৯৫০-এর দশকে নিজ নামে বলীখেলার প্রচলন করেন। তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম এই খেলা ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করে আসছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ১১৫তম আমজু মিয়ার বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে চার বছর ধরে এই খেলার আয়োজন বন্ধ রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বলীখেলার বর্তমান অবস্থা

কালের বিবর্তনে পটিয়ার অনেক বলীখেলা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তুফান আলী মুন্সীর বলীখেলা, পরির দিঘির বলীখেলা, ভাটিখাইনের বারেক চেয়ারম্যানের বলীখেলা এখন আর নেই। তবে আমজু মিয়ার বলীখেলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন তাঁর উত্তরসূরিরা। আগামীতে পটিয়া স্কুল মাঠে বড় পরিসরে এই খেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ

বলীখেলা চট্টগ্রামের নিজস্ব লোকসংস্কৃতির অংশ। এটি শুধু খেলা নয়, বরং মানুষের মিলনমেলা। লেখক ও গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক বলেন, 'বলীখেলা মানুষের মধ্যে একটা হার্দিক সেতুবন্ধন রচনা করত। এখন সেই বিনোদন নেই।'

আমজু মিয়ার বলীখেলা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের সাক্ষী। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ