ইসলাম ধর্মে একাধিক বিবাহের ক্ষেত্রে স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করা স্বামীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। সম্প্রতি একটি প্রশ্ন উঠেছে যে, দ্বিতীয় বিবাহের সময় স্ত্রী যদি তার বৈবাহিক অধিকার ত্যাগ করার শর্তে রাজি হন, তাহলে কি তা শরিয়তসম্মত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ইসলামি পণ্ডিতরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্ত্রীর অধিকার মওকুফ করিয়ে নেওয়ার শর্তে বিবাহ সম্পাদন করা সমীচীন নয়।
স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষার বিধান
যে কোনো ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে রাত যাপনের পালা বণ্টন, ব্যয় ও ভরণ-পোষণ প্রদানের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা স্বামীর ওপর ওয়াজিব। প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী উভয়েই বৈবাহিক অধিকারের ক্ষেত্রে সমান মর্যাদার অধিকারী। শরিয়তের দৃষ্টিতে সমতা রক্ষা বিশেষভাবে রাত যাপনের ক্ষেত্রে আবশ্যক; তবে সহবাসের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা শর্ত নয়।
বাসস্থান ও অন্যান্য সুবিধা
বাসস্থানের ক্ষেত্রেও উভয় স্ত্রীর জন্য সমপর্যায়ের ও সমমানের ব্যবস্থা করা স্বামীর জন্য অপরিহার্য। প্রত্যেক স্ত্রীকে পৃথক কক্ষ প্রদান করতে হবে, যেখানে বসবাসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুবিধা—যেমন রান্নাঘর, গোসলখানা এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকবে। অবকাশ বা ছুটির দিনগুলোর ক্ষেত্রেও ন্যায়সঙ্গত বণ্টন করা উচিত। যদি স্বামী এসব বিষয়ে কোনো এক স্ত্রীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেন, তবে তিনি জালিম হিসেবে গণ্য হবেন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে এজন্য জবাবদিহির সম্মুখীন হবেন।
অধিকার মওকুফের শর্তে বিবাহ
স্ত্রীর অধিকার মওকুফ করিয়ে নেওয়ার শর্তে বিবাহ সম্পাদন করা সমীচীন নয়। তদুপরি, কোনো স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় তার কিছু অধিকার ত্যাগ করার পর পুনরায় সেগুলোর দাবি উত্থাপন করেন, তাহলে স্বামীর ওপর সেই অধিকারসমূহ পূরণ করা আবশ্যক হবে। কারণ শরিয়ত স্ত্রীকে এ অধিকার প্রদান করেছে যে, তিনি পূর্বে মওকুফকৃত অধিকারের পুনরায় দাবি করতে পারেন।
দ্বিতীয় বিবাহের শর্ত
যদি আপনার দ্বিতীয় বিবাহের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকে এবং বিবাহের পর উভয় স্ত্রীর অধিকার যথাযথভাবে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ও সমতার ভিত্তিতে আদায় করতে সক্ষম হন, তবে আপনার জন্য দ্বিতীয় বিবাহ করার অনুমতি রয়েছে। পক্ষান্তরে, যদি আপনার পর্যাপ্ত আর্থিক বা শারীরিক সামর্থ্য না থাকে, অথবা আপনি আশঙ্কা করেন যে দ্বিতীয় বিবাহের পর স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত সমতা রক্ষা করতে পারবেন না, তাহলে আপনার জন্য দ্বিতীয় বিবাহ করা বৈধ হবে না।
পাকিস্তানের জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বিন্নোরি টাউনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফতোয়াটি অনুবাদ করেছেন মুফতি নুরুযযামান নাহিদ।



