২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আসন্ন ২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে হজ ফ্লাইটের কার্যক্রম। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৌদি সরকার ঘোষিত হজ ব্যবস্থাপনার বিশেষ ‘রোডম্যাপ’ অনুসরণ করে এবার আগেভাগেই ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিতকরণ

উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হজযাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে হজযাত্রীদের সাথে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আচরণ করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে হজযাত্রীদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ সফরের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ: রুট-টু-মক্কা ইনিশিয়েটিভ

২০২৬ সালের হজের রোডম্যাপ অনুযায়ী, এবার হজযাত্রীদের সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বাংলাদেশেই (রুট-টু-মক্কা ইনিশিয়েটিভের আওতায়) সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে করে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর হাজিদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হবে না, যা তাদের যাত্রাকে আরও সহজ ও সুবিধাজনক করবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রথম হজ ফ্লাইটের বিস্তারিত তথ্য

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রা করবে। ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৬টি, সাউদিয়ার ৩টি এবং ফ্লাইনাসের ৩টি ফ্লাইট থাকবে।

হজ ফ্লাইটের প্রস্তুতি ও পরিসংখ্যান

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্ধিত ফ্লাইট শিডিউল ও বিমান ভাড়া কমানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হজ যাত্রী পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি অ্যাজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করবেন।

হজ ফ্লাইটের সময়সূচি ও এয়ারলাইন্সের ভূমিকা

আগামী ২১ মে হজ পূর্ব ফ্লাইট শেষ হবে। এ বছর মোট ২০৭টি হজ পূর্ব ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে। যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। মোট হজযাত্রীর প্রায় ৫০ শতাংশ বহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি হজযাত্রীদের বহন করবে সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স।

হজ অনুষ্ঠান ও ফিরতি ফ্লাইটের তারিখ

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, এটি চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সৌদি দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী প্রথম হজ ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন।