৪৫ বছর ইমামতির পর রাজকীয় বিদায় পেলেন ময়মনসিংহের গনী হুজুর
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার আটানি বাজার জামে মসজিদের প্রবীণ ইমাম হাফেজ আব্দুল গনিকে ‘গনী হুজুর’ নামে ডাকেন এলাকার মুসল্লিরা। ৮০ বছর বয়সী এই আলেম টানা ৪৫ বছর ধরে মসজিদটিতে ইমামতি করেছেন। তার দীর্ঘ ইমামতি জীবনের শেষ দিন ছিল শুক্রবার, যেদিন বাদ জুমা তাকে রাজকীয় সম্মাননা জানিয়ে বিদায় দেয় মসজিদ কমিটি।
দীর্ঘ ইমামতি জীবনের অবিস্মরণীয় অধ্যায়
জানা গেছে, মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গহর শেখের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এ জামে মসজিদে গনী হুজুর প্রায় ৪৫ বছর ধরে ইমামতি করেছেন। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি শুধু নামাজ পরিচালনাই করেননি, বরং এলাকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি মানুষের নৈতিকতা গঠন ও সমাজসেবায় অপরিসীম দায়িত্ব পালন করেছেন, যা স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে।
আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠান
বিদায় অনুষ্ঠানে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসল্লিরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তার অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। স্থানীয়দের দাবি, একজন মানুষ ৪৫ বছর ধরে একটি মসজিদের মেহরাবে দাঁড়িয়ে সমাজকে আলোর পথে পরিচালিত করেছেন—এটি সত্যিই বিরল দৃষ্টান্ত।
গনী হুজুরের আবেগময় প্রতিক্রিয়া
নিজের বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে হাফেজ আব্দুল গনি জানান, ‘মসজিদের প্রতিটি ইট, বালু, মাটি এবং এখানের মুসল্লিদের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক বা বন্ধনের সৃষ্টি হয়েছে। বয়স হয়েছে, এখন নতুনদের সুযোগ দেওয়া উচিত। এ সংবর্ধনা জীবনের বড় প্রাপ্তিস্বরূপ হয়ে থাকবে।’
স্থানীয় নেতার মন্তব্য
খেলাফত মজলিসের মুক্তাগাছা উপজেলা সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান ইদুল বলেন, ‘তিনি আপাদমস্তক একজন ভালো মানুষ ছিলেন। সবার আস্থাভাজন হিসেবেই তিনি ৪৫ বছর ধরে ইমামতি করেছেন। বিদায় দিতে সবার সত্যিই কষ্ট হয়েছে।’
অনুষ্ঠান শেষে গনী হুজুরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এই বিদায় অনুষ্ঠানটি এলাকার মানুষের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা গনী হুজুরের অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করেছে।



