সুদি ব্যাংকে চাকরি করলে জান্নাত যাওয়া কি সম্ভব? শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য
সুদি ব্যাংকে চাকরি করলে জান্নাত? শায়খ আহমাদুল্লাহর জবাব

ইসলামে জীবিকা উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল উপায়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, কোনো ব্যাংকে যদি সুদি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত হয়ে চাকরি করা হয়, তবে কি জান্নাতে যাওয়া সম্ভব? সম্প্রতি এমন একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে শায়খ আহমাদুল্লাহ এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, তিনি ব্যাংকে চাকরি করেন এবং অনেকে বলেন তার টাকা হারাম। তিনি নামাজও পড়েন, কিন্তু তার নামাজ কবুল হবে কি না—এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

হারাম উপার্জনের পরিণতি

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি সুদি ব্যাংকে চাকরি করেন বা সুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন, তবে তার উপার্জন হালাল হবে না। আর উপার্জন যদি হালাল না হয়, তাহলে তার অন্যান্য আমল বা নফল ইবাদত জান্নাতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে না। তিনি বলেন, জান্নাতে যেতে হলে অবশ্যই উপার্জন হালাল করতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাদিসের প্রমাণ

শায়খ আহমাদুল্লাহ বিভিন্ন হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শরীর যদি হারাম দ্বারা গঠিত হয়, তবে সেই গোশত জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তিনি নবী (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে, অনেক দূর থেকে একজন লোক এসে কাবা তাওয়াফ করে আল্লাহর কাছে হাত তুলে চোখের পানি ফেলে, কিন্তু তার দোয়া কবুল হয় না। কারণ তার শরীর, কাপড় ও সম্পদ হারাম দ্বারা গঠিত।

সুদের সঙ্গে জড়িতদের ওপর লানত

তিনি আরও বলেন, নবী (সা.) সুদ দাতা, সুদ গ্রহীতা, সুদের লেখক, সুদের সাক্ষী এবং সুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হওয়ার কথা বলেছেন। তাই যারা সুদের ব্যাংকে চাকরি করেন বা সুদের কারবারের সঙ্গে জড়িত, তাদের দোয়া কবুল হয় না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপসংহার

শায়খ আহমাদুল্লাহ সবার প্রতি আহ্বান জানান, হারাম উপার্জন ত্যাগ করে হালাল উপার্জনের দিকে আসার চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, জান্নাত লাভের জন্য হালাল উপার্জন অপরিহার্য।