হজ-ওমরাহর ইহরাম বাঁধার পাঁচ মিকাত ও বিস্তারিত বিবরণ
হজ-ওমরাহর ইহরাম বাঁধার পাঁচ মিকাত ও বিবরণ

হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য কাবা শরিফ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ইহরাম বাঁধার স্থানগুলো নবীজির (সা.) হাদিস দ্বারা নির্ধারিত। এই স্থানগুলোকেই মিকাত বলা হয়। হারাম এলাকার চারপাশে পাঁচটি স্থানে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য মিকাত নির্ধারিত রয়েছে।

মক্কার চতুর্দিকে অবস্থিত পাঁচ মিকাত

১. যুল হুলাইফা

এই স্থানটি বর্তমানে আবইয়ারে আলি নামে পরিচিত। এটি মসজিদে নববি থেকে ১৩ কিলোমিটার এবং মক্কা শহর থেকে ৪২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মদিনাবাসী এবং এই পথ দিয়ে আগত ব্যক্তিরা এখান থেকে ইহরাম বাঁধেন। মক্কা শহর থেকে এটি সবচেয়ে দূরবর্তী মিকাত।

২. আল-জুহফা

এই স্থানটি লোহিত সাগর থেকে ১০ কিলোমিটার ভেতরে রাবেগ শহরের কাছে অবস্থিত। জুহফাতে চলাচল বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে রাবেগ নামক স্থান থেকে লোকেরা ইহরাম বাঁধেন। এটি এখন একটি বড় শহরে পরিণত হয়েছে। জম্মুম উপত্যকার পথ ধরে মক্কা শহর থেকে এই স্থানের দূরত্ব ১৮৬ কিলোমিটার। সিরিয়া, লেবানন, জর্দান, ফিলিস্তিন, মিশর, সুদান, মরক্কো, আফ্রিকার দেশসমূহ এবং সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলীয় কিছু এলাকা থেকে আগত হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা এখান থেকে ইহরাম বাঁধেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. কারনুল মানাযিল

কারনুল মানাযিল বর্তমানে সাইলুল কাবির নামে প্রসিদ্ধ। এটি সরকারি ও বেসরকারি অফিস আদালতসহ একটি বড় গ্রাম। মক্কা থেকে এর দূরত্ব ৭৮ কিলোমিটার। কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, ইরাক, ইরানসহ উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ এবং সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম ও তায়েফ থেকে আগত হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা এখান থেকে ইহরাম বাঁধেন।

৪. ইয়ালামলাম

ইয়ালামলাম মক্কা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এলাকাটি সা’দিয়া নামেও পরিচিত। ইয়ামেন, বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়াসহ পূর্বাঞ্চলীয় দেশসমূহ থেকে আগত হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা এখান থেকে ইহরাম বাঁধেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৫. যাতুইরক

যাতুইরক মক্কা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট না থাকায় এটি বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে না। এটি ছিল ইরাকবাসীর মিকাত। তারা এখন কারনুল মানাযিল তথা সাইলুল কাবিরকে মিকাত হিসেবে ব্যবহার করেন।

বাংলাদেশি হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের মিকাত

বাংলাদেশ থেকে হজ বা ওমরাহ পালনের জন্য যারা যাবেন, তাদের মিকাত ইয়ালামলাম। আকাশপথে গেলে উড়োজাহাজ ইয়ালামলাম অতিক্রম করার আগেই ইহরাম বেঁধে ফেলতে হবে। উড়োজাহাজ ইয়ালামলামের কাছাকাছি পৌঁছালে সাধারণত উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, তখনই ইহরাম বাঁধতে হয়। অনেকে উড়োজাহাজে ওঠার আগেই ইহরাম বেঁধে নেন।

মক্কায় অবস্থানকারীদের ইহরাম বাঁধার স্থান

মক্কার অধিবাসীরা যদি ওমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধতে চান, তাহলে তাদের মিকাতে যেতে হয় না। তারা হারামের সীমার বাইরে অবস্থিত মসজিদে আয়েশায় গিয়ে ইহরাম বাঁধতে পারেন। মসজিদটি তানইম এলাকায় অবস্থিত। বিদায় হজের সফরে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) নবীজির নির্দেশে ওমরাহর জন্য মক্কা থেকে তানইমে গিয়ে ইহরাম বেঁধেছিলেন। এ কারণে সেখানে নির্মিত মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামে।

যারা মক্কার স্থায়ী বাসিন্দা নন, ব্যবসা বা অন্য কারণে মক্কায় অবস্থান করছেন, তারা যদি ওমরাহ করতে চান অথবা মক্কার বাইরে থেকে হজ বা ওমরাহর জন্য এসে ইহরাম খুলে ফেলার পর পুনরায় নফল ওমরাহ করতে চান, তারাও মসজিদে আয়েশা থেকে ইহরাম বাঁধতে পারবেন। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, মক্কায় অবস্থানকারী যে কোনো ব্যক্তির জন্য তানইম এলাকার মসজিদে আয়েশা থেকে ইহরাম বাঁধার সুযোগ রয়েছে এবং এটি উত্তম।

তবে যারা মক্কার বাইরে থেকে ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় যাবেন, তারা নির্ধারিত মিকাত থেকেই ইহরাম বাঁধবেন। তাদের জন্য মসজিদে আয়েশা থেকে ইহরাম বাঁধা জায়েজ নয়।