বিপদে ধৈর্য ধারণে পবিত্র কোরআনের ১০টি আয়াত
মানুষের জীবন সর্বদা একই রকম থাকে না। পরিবেশ ও পরিস্থিতি প্রায়শই পরিবর্তিত হয়। কখনো তা মানুষের জন্য অনুকূল হয়ে ওঠে, আবার কখনো প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এটি দুনিয়াতে আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম। তাই আল্লাহ তায়ালা বিপদ-আপদে প্রত্যেক মুমিনকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সুরা বাকারাহ, আয়াত: ১৫৩) আল্লাহ আরও বলেছেন, সুতরাং কষ্টের সঙ্গেই তো স্বস্তি আছে, নিশ্চয় কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে। (সুরা আল-ইনশিরাহ, আয়াত: ৫-৬) আসুন জেনে নিই বিপদের দিনে মনকে শক্ত রাখতে সহায়ক এমন ১০টি আয়াতের কথা।
১. সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা তিনি দেন না
আপনার ওপর যে পরীক্ষা এসেছে, তা সইবার ক্ষমতা আপনার আছে বলেই আল্লাহ তা নির্ধারণ করেছেন। উচ্চারণ: লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উস'আহা। অর্থ: আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬)
২. কষ্টের পরেই আসে স্বস্তি
বিপদ স্থায়ী নয়; স্রষ্টা দুবার অভয় দিয়ে বলেছেন যে, অন্ধকারের পরেই আলোর দেখা মিলবে। উচ্চারণ: ফা ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা, ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা। অর্থ: নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে। (সুরা শারহ, আয়াত: ৫-৬)
৩. মুমিনের নেই পরাজয়
সাময়িক ব্যর্থতায় হীনম্মন্য হওয়া সাজে না; বিশ্বাসে অটল থাকাই বিজয়ের প্রথম শর্ত। উচ্চারণ: ওয়ালা তাহিনু ওয়ালা তাহযানু ওয়া আনতুমুল আ'লাউনা ইন কুনতুম মুমিনীন। অর্থ: তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দুঃখ করো না। তোমরাই বিজয়ী যদি তোমরা মুমিন হও। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৯)
৪. নিরাশ হওয়া বারণ
ভুল বা পাপে জীবন জর্জরিত হলেও স্রষ্টার দয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ঠিক নয়। তাঁর রহমতের দুয়ার সব সময় খোলা। উচ্চারণ: কুল ইয়া ইবাদিয়াল্লাযিনা আসরাফু আলা আনফুসিহিম লা তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ। অর্থ: বলো, হে আমার বান্দারা যারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)
৫. ধৈর্য ও নামাজই পরম শক্তি
যখন নিজের সামর্থ্য ফুরিয়ে আসে, তখন ধৈর্য এবং নামাজের মাধ্যমেই অসীম শক্তির উৎস খুঁজে পাওয়া যায়। উচ্চারণ: ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানুস তা'ঈনু বিসসাবরি ওয়াসসালাহ, ইন্নাল্লাহা মা'আস সাবিরীন। অর্থ: হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)
৬. আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন
একাকীত্ব বা অসহায় বোধ করার প্রয়োজন নেই; বিপদের চরম মুহূর্তেও মহান প্রতিপালক আপনার পাশেই আছেন। উচ্চারণ: লা তাহযান ইন্নাল্লাহা মা'আনা। অর্থ: দুঃখ করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। (সুরা তাওবা, আয়াত: ৪০)
৭. প্রভু আপনাকে ত্যাগ করেননি
প্রার্থনা কবুল হতে দেরি হওয়া মানে এই নয় যে আল্লাহ আপনাকে ভুলে গেছেন। তিনি ধৈর্যশীলদের জন্য সেরা পুরস্কার জমা রাখেন। উচ্চারণ: মা ওয়াদ্দা'আকা রাব্বুকা ওয়া মা কলা। অর্থ: তোমার প্রতিপালক তোমাকে ত্যাগ করেননি এবং বিরূপও হননি। (সুরা দুহা, আয়াত: ৩)
৮. যা নির্ধারিত, তা-ই হবে
ভবিষ্যৎ নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত। কারণ তিনিই আমাদের পরম অভিভাবক। উচ্চারণ: কুল লাই ইউসিবানা ইল্লা মা কাতাবাল্লাহু লানা হুওয়া মাওলানা। অর্থ: বলো, আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া আমাদের কিছুই ঘটবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক। (সুরা তাওবা, আয়াত: ৫১)
৯. তাকওয়ায় মেলে সংকট মুক্তি
সততার পথে অবিচল থাকলে এমন সব অচেনা পথ দিয়ে সমাধানের পথ খোলে, যা ভাবনার অতীত। উচ্চারণ: ওয়া মান ইয়াত্তাকিল্লাহা ইয়াজ'আল লাহু মাখরাজা। অর্থ: যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সংকট থেকে উত্তরণের) পথ খুলে দেন। (সুরা তালাক, আয়াত: ২)
১০. আল্লাহর সাহায্যই যখন মূল ভরসা
জাগতিক সব শক্তি এক হলেও আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো বিজয় সম্ভব নয়, আবার তিনি পাশে থাকলে কোনো পরাজয় নেই। উচ্চারণ: ইন ইয়ানসুরকুমুল্লাহু ফালা গালিবা লাকুম। অর্থ: যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে কেউ তোমাদের পরাজিত করতে পারবে না। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬০)
সংকটকালে এই আয়াতগুলো আমাদের মনে আত্মবিশ্বাস ও প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে। জীবনের প্রতিকূলতায় ভেঙে না পড়ে ধৈর্যের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই প্রকৃত মানুষের পরিচয়। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।



