ইসলাম শুধু কোন খাবার হালাল আর কোনটি হারাম তা নির্ধারণই করেনি, বরং খাবারের শুদ্ধতা, পরিচ্ছন্নতা ও মানবিক রুচির দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। মহান আল্লাহ মানুষের জন্য পবিত্র ও উত্তম খাদ্যকে বৈধ করেছেন এবং অপবিত্র জিনিস থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের সমাজে অনেক সময় হালাল পশুর সব অংশ খাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা যায়। অথচ প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কিছু অংশ খেতে অপছন্দ করতেন এবং কিছু অংশ স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে কুরবানির সময় এ বিষয়গুলো জানা ও মানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হালাল প্রাণীর রক্ত খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন: حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ অর্থাৎ 'তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, রক্ত এবং শূকরের মাংস।' (সুরা আল-মায়িদা: আয়াত ৩) আরও এসেছে: قُل لَّآ أَجِدُ فِى مَآ أُوحِىَ إِلَىَّ مُحَرَّمًا عَلَىٰ طَاعِمٍ يَطْعَمُهُۥٓ إِلَّآ أَن يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوحًا অর্থাৎ 'বলুন, আমার প্রতি যে ওহি নাজিল হয়েছে তাতে আমি ভক্ষণকারীর জন্য কোনো খাদ্য হারাম পাই না, তবে মৃত প্রাণী অথবা প্রবাহিত রক্ত হলে (তা হারাম)।' (সুরা আল-আনআম: আয়াত ১৪৫) অতএব, কুরবানির পশু হোক কিংবা অন্য কোনো হালাল প্রাণী—প্রবাহিত রক্ত খাওয়া সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।
নবীজি (সা.) যেসব অংশ খাওয়া অপছন্দ করতেন
রাসুলুল্লাহ (সা.) হালাল প্রাণীর কিছু অংশ খাওয়া অপছন্দ করতেন। এ বিষয়ে হাদিস শরিফে এসেছে—عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَكْرَهُ مِنَ الشَّاةِ سَبْعًا: الدَّمَ، وَالْمَرَارَةَ، وَالْمَثَانَةَ، وَالْغُدَّةَ، وَالذَّكَرَ، وَالْأُنْثَيَيْنِ তাবেয়ি হজরত মুজাহিদ (রহ.) বর্ণনা করেন, 'রাসুলুল্লাহ (সা.) বকরির সাতটি জিনিস খাওয়া অপছন্দ করতেন—প্রবাহিত রক্ত, পিত্ত, মূত্রথলি, মাংসগ্রন্থি, নর পশুর গুপ্তাঙ্গ এবং অণ্ডকোষ।' (বায়হাকি) অন্য হাদিসে এসেছে—'রক্ত ছাড়া হালাল পশুর অন্য কোনো অংশ হারাম নয়।' তবে প্রিয় নবী (সা.)-এর অপছন্দনীয় অংশগুলো থেকে বিরত থাকাই উত্তম ও তাকওয়ার পরিচায়ক।
যেসব অংশ না খাওয়াই উত্তম
হাদিসের আলোকে হালাল পশুর যেসব অংশ খাওয়া অপছন্দনীয়—
- প্রবাহিত রক্ত
- অণ্ডকোষ
- চামড়া ও গোশতের মাঝখানে সৃষ্ট জমাট মাংসগ্রন্থি
- মূত্রথলি
- পিত্ত
- নর ও মাদা পশুর গুপ্তাঙ্গ
ইসলামী শরিয়তে এসব অংশ খাওয়া থেকে বিরত থাকাকে উত্তম ও শোভন মনে করা হয়েছে।
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও এটি মানুষকে পরিচ্ছন্নতা, পবিত্রতা ও উত্তম রুচির শিক্ষা দেয়। তাই শুধু হালাল হওয়াই যথেষ্ট নয়; প্রিয় নবী (সা.)-এর পছন্দ-অপছন্দকেও গুরুত্ব দেওয়া একজন মুমিনের দায়িত্ব। বিশেষ করে কুরবানির মৌসুমে পশু জবাই ও মাংস বণ্টনের সময় এসব মাসআলা জানা থাকলে আমরা সুন্নাহসম্মত জীবনযাপনের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন ও আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।



