কনকচাঁপার মনোনয়ন নিয়ে অভিযোগ: 'ক্যারিয়ার নিঃস্ব হওয়ার স্বীকৃতি চাই'
কনকচাঁপার মনোনয়ন নিয়ে অভিযোগ ও ক্ষোভ

বিএনপির নারী সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন কনকচাঁপা

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা বিএনপির নারী সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। শনিবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে তিনি এই ফরম নেন। তবে এই প্রক্রিয়ায় তিনি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী নারী নেত্রীদের তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হন।

কনকচাঁপার ফেসবুক পোস্টে মর্মান্তিক অভিযোগ

সরাসরি প্রতিক্রিয়া না জানালেও রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে কনকচাঁপা তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি লিখেছেন, "বছরজুড়ে দলের ভেতরের বাধা পেরিয়ে নিরলস কাজ করেছি। কিন্তু কোনো কারণে দল আমাকে মনোনীত করেনি। তা আমি কষ্ট পেলেও মেনে নিয়েছি।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "বিগত সরকারের আমলে আমরা নেতাকর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি, কেউ জেল খেটেছে, কেউ মামলা খেয়েছে। আর আমি? আমি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছি। একজন শিল্পী গাইতে না পারলে তার কী বাকি থাকে?"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক যাত্রার স্মৃতিচারণ

২০১৩ সালে রাজনীতিতে প্রবেশের প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন, "আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তখন তিনি মহিলা সংরক্ষিত আসনের বদলে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা বলেছিলেন।" তিনি স্বীকার করেন যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হয়ে মনোনয়ন পাওয়া তার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল।

কনকচাঁপা দাবি করেন, "আমি একজন রাজনৈতিক মনের মানুষ, কিন্তু রাজনীতিবিদ নই। যার জন্য পুরো কাজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল।" তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমার এই যে ক্যারিয়ার হারানো, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কোনো স্বীকৃতি কি আমি পেতে পারি না?"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দলীয় নেত্রীদের তীব্র প্রতিবাদ

কনকচাঁপার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ দলের অভ্যন্তরীণ নারী নেত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বগুড়া জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নির্বাহী সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, "কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা বিএনপির কে? তিনি কি দল করেছে? যারা আন্দোলনে ছিল, ১৭ বছর আমরা দলের জন্য খেটেছি, তাদের মূল্যায়ন কোথায়?"

জেরিন রনি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, "বগুড়ার রাজপথে, ঢাকার রাজপথে ছিলাম। ১৭ বার জেলে গেছি। নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা খেয়েছি। কনকচাঁপা এতদিন কোথায় ছিলেন?" তিনি দাবি করেন, "আমরা সুবিধাবাদীদের দেখতে চাই না।"

দলীয় কাঠামোয় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব

অন্যান্য নেত্রীরাও একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দলে দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ স্বীকার করা নেত্রীদের উপেক্ষা করে হঠাৎ আগত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হলে তা দলীয় কাঠামো ও কর্মীদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কনকচাঁপা অবশ্য তার পোস্টে স্পষ্ট করেছেন, "দলের প্রতি আমার আনুগত্য শতভাগ। কিন্তু অযথা অন্যায়ভাবে মিথ্যাচার করে মানুষের কাছে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার হীনপ্রচেষ্টা বস্তুতই দুরভিসন্ধি।" তিনি বিশ্বাস করেন, "যারা জাতীয় নির্বাচনে চায়নি যে, আমি নমিনেশন পাই, তারা এখনো সেই অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন।"

এই সংগীতশিল্পী শেষ পর্যন্ত বলেছেন, "আমার সঙ্গে করা অনেক অন্যায়ের বিচারের ভার আমি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম। কিন্তু এর ফলে দলের যদি কোনো ইমেজ ক্ষুণ্ণ হয় তা খুবই দুঃখজনক।" পুরো ঘটনাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি জটিল দিক উন্মোচন করেছে।