আশা ভোসলে: কিংবদন্তির জীবনের সাতটি অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়
আশা ভোসলে: জীবনের ৭ অনুপ্রেরণামূলক তথ্য

আশা ভোসলে: কিংবদন্তির জীবনের সাতটি অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়

ভারতীয় সংগীতের অমর কণ্ঠস্বর আশা ভোসলে রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ সালে মুম্বাইয়ে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তার অনবদ্য ক্যারিয়ার শুধু গানের জগতেই নয়, সমগ্র ভারতীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। তার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সংগীতপ্রেমীদের জন্য নিচে তার জীবনের সাতটি অনুপ্রেরণামূলক তথ্য তুলে ধরা হলো।

১. শৈশবেই জীবনযুদ্ধের শুরু

মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরকে হারানোর পর, আশা ভোসলে পরিবারের দায়িত্ব নিতে গান শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবি ‘মাঝা বাল’-এ তার প্রথম প্লেব্যাক ছিল মাত্র ১০ বছর বয়সে, যা তার প্রতিভার প্রাথমিক প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

২. ২০টি ভাষায় গানের দক্ষতা

আশা ভোসলে শুধু হিন্দি বা মারাঠি নয়, বাংলা, তামিল, রুশ এবং মালয় ভাষাসহ মোট ২০টি ভাষায় গান গেয়েছেন। এই ভাষাগত দক্ষতা তাকে সত্যিকার অর্থেই একটি ‘গ্লোবাল আইকন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, যা বিশ্বজুড়ে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. গ্র্যামি পুরস্কারে মনোনয়ন

ভারতীয় সংগীতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে দিতে তার অবদান অপরিসীম। ১৯৭৭ সালে ওস্তাদ আলী আকবর খাঁর সঙ্গে ‘লিগ্যাসি’ অ্যালবামের জন্য এবং ২০০৫ সালে ‘ইউ হ্যাভ স্টোলেন মাই হার্ট’ অ্যালবামের জন্য তিনি দুবার মর্যাদাপূর্ণ গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস-এ মনোনীত হন, যা তার শিল্পীসত্তার বৈশ্বিক স্বীকৃতি প্রমাণ করে।

৪. রন্ধনশিল্পী ও সফল উদ্যোক্তা

গানের পাশাপাশি রান্নার প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ছিল। ২০০২ সালে দুবাইয়ে তার প্রথম রেস্টুরেন্ট ‘আশা’স’ খোলার মাধ্যমে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বর্তমানে কুয়েত, কাতার এবং বার্মিংহামসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে তার রেস্টুরেন্ট চেইন ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৫. গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি

২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি স্টুডিও রেকর্ডিং করা শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তিনি ২০টি ভাষায় ১১ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন, যা তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিভার নিদর্শন।

৬. রাষ্ট্রীয় সম্মান ও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ‘পদ্মশ্রী’ (১৯৯৭), ‘পদ্মবিভূষণ’ (২০০৮) এবং চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারে ভূষিত হন। এই সম্মাননা তার শিল্পী জীবনের শ্রেষ্ঠত্বকে তুলে ধরে।

৭. শেষ গানের অনন্য মেলবন্ধন

মৃত্যুর আগে তার শেষ রেকর্ড করা গানটি ছিল ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘গরিলাজ’-এর সঙ্গে। চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য শ্যাডোয়ি লাইট’ গানটিতে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে ব্রিটিশ অল্টারনেটিভ পপ-এর এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন, যা তার সৃজনশীলতার চূড়ান্ত প্রকাশ।

সূত্র: দ্য হিন্দু