ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেসের আকস্মিক মৃত্যু
ইউরোপীয় চলচ্চিত্র জগতে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস ৫৭ বছর বয়সে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে ফিগারো। প্রাথমিকভাবে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত্যুর পরিস্থিতি ও চিকিৎসা
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নাদিয়া ফারেস। এর আগে প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে কৃত্রিমভাবে কোমায় রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ১৭ এপ্রিল তার হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়।
পরিবারের শোক ও প্রতিক্রিয়া
নাদিয়া ফারেসের দুই মেয়ে সিলিয়া ও শানা এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, 'ফ্রান্স এক মহান শিল্পীকে হারাল, আর আমরা হারালাম আমাদের মাকে।' ব্যক্তিগত এ ক্ষতির কথা তুলে ধরে তারা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জীবন ও কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
নাদিয়া ফারেস ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব কাটান ফ্রান্সের নিস শহরে। পরে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্যারিসে পাড়ি জমান তিনি। ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও ২০০০ সালে 'দ্য ক্রিমসন রিভার্স' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। এছাড়াও 'মার্সেই' সিরিজে তার ভূমিকা তাকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে।
২০০৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক প্রযোজক স্টিভ চ্যাসম্যানকে বিয়ে করে কিছু সময়ের জন্য অভিনয় থেকে দূরে সরে যান নাদিয়া ফারেস। পরে ২০১৬ সালে 'মার্সেই' সিরিজের মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফেরেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তনের পর ২০২২ সালে ফ্রান্সে ফিরে আসেন।
শিল্পী হিসেবে তার অবদান
নাদিয়া ফারেসের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রজগতে। তার অভিনয় দক্ষতা ও শিল্পীসুলভ উপস্থাপনা দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। ফরাসি ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।



