নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। আইএমডিবি-তে তাঁর নামের পাশে অসংখ্য সিনেমার তালিকা। যেকোনো চরিত্রে অনায়াসে মানিয়ে যান তিনি। বাণিজ্যিক বা শৈল্পিক ধারার হিন্দি সিনেমায় এই সময়ের নির্ভরযোগ্য নাম নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। কিন্তু আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে গিয়ে কতটা কঠিন পথ পেরোতে হয়েছে, সেই অজানা গল্পই নতুন করে সামনে আনলেন অভিনেতা।
স্বপ্ন আর সংগ্রামের শুরু
অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে এসেছিলেন নওয়াজ, পকেটে তখন প্রায় কিছুই নেই। জীবিকা চালাতে কাজ নিয়েছিলেন নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে। পাশাপাশি থিয়েটারে কাজ করে নিজের অভিনয়দক্ষতা শাণিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই পথ মোটেই সহজ ছিল না। দিনের পর দিন কাজের খোঁজ, অডিশন, প্রত্যাখ্যান—সব মিলিয়ে জীবনের এক কঠিন অধ্যায় শুরু হয়েছিল তখনই।
আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ার দিনগুলো
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নওয়াজ জানান, শুরুর দিকে আত্মবিশ্বাস আর আবেগে ভরপুর থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে। অভিনেতার ভাষায়, ‘শুরুর দিকে আত্মবিশ্বাস থাকে। কিন্তু বারবার সংগ্রামের মুখে পড়লে সেই আত্মবিশ্বাস কমতে শুরু করে। তখন মনে হয়—আমি যা শিখেছি, সেটাই কি ভুল?’ দীর্ঘ সময় কাজ না পাওয়ায় নওয়াজ নিজের যোগ্যতা নিয়েই সন্দেহ করতে শুরু করেছিলেন। কখনো মনে হতো ভাগ্য তাঁর বিরুদ্ধে, আবার কখনো মনে হতো, তিনি হয়তো এই পেশার জন্যই উপযুক্ত নন।
‘আমি দুর্ভাগা’—এক দশকের অনুভূতি
নওয়াজউদ্দিন স্বীকার করেন, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি নিজেকে দুর্ভাগা মনে করতেন। বড় কোনো সুযোগ এলেই সেটি হাতছাড়া হয়ে যেত। এমনও হয়েছে, কাজ পাওয়ার খবর পরিবার-বন্ধুদের জানালেন, কিন্তু শুটিং শুরুর আগেই তাঁকে বাদ দেওয়া হলো, কখনো আবার না জানিয়েই।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে কান্না
সংগ্রামের সেই দিনগুলো শুধু আর্থিক কষ্টেই সীমাবদ্ধ ছিল না, মানসিক চাপও ছিল প্রবল। নওয়াজ বলেন, ‘অনেক সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে ইচ্ছা করত। কেঁদেছিও, চারপাশে তাকিয়ে দেখতাম, কেউ দেখছে কি না।’
তিন বেলার খাবার
একসময় এমনও দিন গেছে, যখন খাবার বলতে ছিল শুধু বিস্কুট। সকাল, দুপুর, রাত—তিন বেলাই সেই বিস্কুট খেয়েই কাটিয়েছেন নওয়াজ। আজও সেই বিস্কুট নওয়াজের কাছে শুধু খাবার নয়; বরং এক কঠিন সময়ের স্মৃতি। নওয়াজের কথায়, ‘আজও যদি সেই বিস্কুট খাই, সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। মনে হয়, আমার কিছুই নেই। সেই স্বাদে এখনো কষ্ট মিশে থাকে।’
সাফল্যের পরও বিনয়
অবশেষে অনুরাগ কশ্যপের ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ নওয়াজকে এনে দেয় জাতীয় স্বীকৃতি। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের জায়গা পোক্ত করেছেন তিনি। তবে সাফল্যের চূড়ায় উঠেও নিজের শুরুর দিনগুলো ভুলে যাননি নওয়াজ; বরং সেই সংগ্রামই তাঁকে আজকের জায়গায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। ‘আমি কোনো কিছুই ভুলে যাইনি; বরং নিজের পা মাটিতে রাখতে সব সময় পুরোনো দিনের কথা মনে করি,’ বলেন নওয়াজ।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে



