ভারতীয় হিন্দি সিনেমার প্রবীণ অভিনেতা ভরত কাপুর মারা গেছেন। গতকাল সোমবার ৮০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই খবর নিশ্চিত করেছে। মুম্বাইয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
শেষকৃত্যের বিবরণ
গতকাল দুপুর তিনটার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ভরত কাপুর। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অবতার গিল। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি এইমাত্র শ্মশান থেকে ফিরেছি। সাড়ে ছয়টায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। তিনি তিনটায় মারা যান। তিন দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।’ জানা গেছে, তাঁর একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে গিয়েছিল। তাঁর ছেলে রাহুল ফোন করে বাবার মৃত্যুর খবর জানান। দীর্ঘ ৫০ বছরের সম্পর্ক আমাদের।’
অভিনয় জীবন
ভরত কাপুরের অভিনয় যাত্রা শুরু হয় থিয়েটারের মাধ্যমে। পরে গত শতকের সাতের দশকে হিন্দি সিনেমায় পদার্পণ করেন। তাঁকে রুপালি পর্দায় নিয়ে আসেন দেব আনন্দের ভাই চেতন আনন্দ। পরবর্তী প্রায় তিন দশক তিনি নিয়মিত বিভিন্ন পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছেন। কখনো খলনায়ক, কখনো আইনজীবী, আবার কখনো পুলিশ কর্মকর্তা—প্রতিটি ভূমিকায় তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
উল্লেখযোগ্য কাজ
ভরত কাপুরের গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘নুরি’, ‘রাম–বলরাম’, ‘লাভ স্টোরি’, ‘বাজার’, ‘গুলামি’, ‘আখরি রাস্তা’, ‘সত্যমেব জয়তে’, ‘স্বর্গ’, ‘খুদা গাওয়া’, ‘রং’ ইত্যাদি। পরবর্তী সময়ে ‘বরসাত’ ও ‘সাজন চলে শ্বশুরাল’ ছবিতেও দেখা গেছে তাঁকে। ২০০৪ সালের ‘মীনাক্ষী: আ টেল অব থ্রি সিটিস’ ছবিতেও অভিনয় করেন তিনি।
টেলিভিশন ও ব্যক্তিগত জীবন
সিনেমার পাশাপাশি ‘ক্যাম্পাস’, ‘আমানত’, ‘তারা’, ‘চুনৌতি’র মতো একাধিক ধারাবাহিকে কাজ করে তিনি টেলিভিশনের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর মৃত্যুতে বলিউড শোকাহত। তিনি স্ত্রী লোপা, দুই ছেলে রাহুল ও সাগরকে রেখে গেছেন। তাঁর মেয়ে কবিতার মৃত্যু হয় কয়েক বছর আগে।



