মিরসরাইয়ে ছাত্রদল নেতা হৃদয়ের মৃত্যু, সড়ক অবরোধ
মিরসরাইয়ে ছাত্রদল নেতা হৃদয়ের মৃত্যু, সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হামলায় আহত শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় (২৬) নামে এক ছাত্রদল নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি করেরহাট ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাতে উপজেলার কয়লা বাজারে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনা

ছাত্রদল নেতা হৃদয়ের মৃত্যুর খবরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা বাজার। বিক্ষুব্ধরা বৃহস্পতিবার দুপুরে কয়লা এলাকায় বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক প্রায় ২ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাতে উপজেলার কয়লা বাজারে ভারতীয় সীমান্ত হয়ে অবৈধ পথে আসা একটি গরুবোঝাই ট্রাক আটক করেন স্থানীয়রা। গরুগুলো বদ্ধভবানী এলাকার মো. টিপু ও আব্দুর রহিমের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসছিলেন টিপুর ভাই সুমন। পথে কয়লা এলাকায় ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় যুবক সবুজ ও তার সহযোগীরা। এ সময় চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় সুমনকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুমনকে মারধরের খবর পেয়ে আব্দুর রহিম কয়লা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিমকে ফোন দিয়ে বলেন, ওই এলাকায় কে বা কারা তাদের গরুর গাড়ি আটকে রেখেছে, বিষয়টি দেখার জন্য। তিনি ব্যস্ততার কারণে যেতে পারবেন না বলে জানালে তার ছেলেকে হলেও পাঠাতে বলেন। তখন আব্দুল আলিম ছেলে শাহরিয়ার হোসেন হৃদয় ও আনোয়ার হোসেনকে বিষয়টি দেখার জন্য কয়লা বাজারে পাঠান। ১৫ মিনিট পর তার কাছে খবর আসে হৃদয় ও আনোয়ারের ওপর হামলা করা হয়েছে। এরপর দৌড়ে গিয়ে উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান আব্দুল আলিম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের অভিযোগ

ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়ের বাবা আব্দুল আলিম বলেন, অবৈধ গরু ব্যবসায়ী টিপু ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। ওই দিন রাতে টিপুর সহযোগী রহিম আমাকে বারবার ফোন দিয়ে তাদের গরুর ট্রাক আটক করেছে দেখতে বলে। আমি সারাদিন বাইরে থাকায় ক্লান্ত ছিলাম। যেতে অপরাগতা প্রকাশ করলে আমার ছেলেকেও পাঠাতে বলে। এরপর আনোয়ারসহ আমার ছেলেকে কয়লা বাজারে ঘটনাটি জানতে পাঠাই। এর ১৫ মিনিট পর খবর আসে আমার ছেলের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি ছুটে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ৫ দিন প্রাণপণ চেষ্টা করেও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি কাজী নাজমুল হক বলেন, আহত হৃদয় নামে একজন হাসপাতালে মারা গেছে। এই ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর খবরে কয়লা এলাকায় কিছু লোক জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিকেলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।