‘অ্যাসাসিনেশন’ শব্দটির অর্থ গুপ্তহত্যা। এই শব্দটি গুপ্ত বংশের নামের সাথে সম্পর্কিত। গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন শ্রীগুপ্ত, যিনি আনুমানিক খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীর শেষের দিকে (মতান্তরে ২৪০-২৮০ খ্রিস্টাব্দ) মগধে এই বংশ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘মহারাজ’ উপাধি ধারণ করেন। তবে প্রথম চন্দ্রগুপ্তকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
গ্রামের দাদুর ইংরেজি শিক্ষা
আমাদের সময়ে চা দোকান বা জনাকীর্ণ স্থানে ইংরেজি জ্ঞানের পণ্ডিত সেজে কেউ কাউকে ভড়কে দিত। গ্রামের বার্মা ফেরত যামিনী কেরানি অশীতিপর বৃদ্ধ দাদু টান টান সিনা নিয়ে বলতেন, ‘আচ্ছা বলো না দেখি— তোমরা ইংরেজির কেমন চোস্ত?’ প্রাইমারি স্কুল জীবনে বাবা-মায়ের সামনে আমাদের অন্তরাত্মা শুকিয়ে যেত। তখনকার দেশে খুন-খারাবি নিয়ে তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না বললেই চলে।
ধাঁধা ও ভবিষ্যদ্বাণী
দাদু ধাঁধা টাইপের প্রশ্ন করতেন: ‘গাধার পিঠে গাধা দাঁড় করিয়ে রেখেছি, তারপর সে গাধার উপরে আমি চড়ে বসেছি। তারপরে সৃষ্টি হয়ে গেছে একটি জাতি।’ ছোট মনে জটিল-কুটিল চিন্তা না দেখে দাদু হেসে বলতেন, ‘আরে একদিন তোরা হবি সেই বেকুবের দল। মূর্খ উগ্র খুনি জল্লাদ কোতোয়াল। বুঝবি সেইদিন।’
গোপনীয়তার সংস্কৃতি
‘অ্যাসাসিনেশন’ মানে গুপ্তহত্যা। শতভাগ এক না হলেও কাছাকাছি ছিল গোপনীয় ও গুপ্ত অবস্থান। সম্ভবত এই জনপদে সে সময় থেকে সরকারি অফিসের খামের উপরে নিচে লেখা হয় ‘গোপনীয়’। কিন্তু কী বা কেমন সেটা গোপনীয় তা জানতে পারবেন না কোনোদিনই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কিংবা তার জনগণ। এই জনপদের হৃদয় মানচিত্রের ভাঁজে ভাঁজে লেখা আছে বহুরূপী স্লোগান। সেখানেই লুকিয়ে পড়েন আধুনিক গুপ্ত ভর্ৎসিত ভার্সন।
গুপ্তচর ও সাংকেতিক ভাষা
গুপ্ত মুখে গুপ্তচর সাংকেতিক ভাষাসমূহের আধুনিক নানাবিধ সংস্করণ ঐতিহাসিক দলিলই কী বয়ে নিয়ে চলেছেন— এই জনপদের রসময় গুপ্তরা, যাদের মুখে মিষ্টি অন্তরে বিষসমূহ রচিত গোপনীয় কিংবা গুপ্ত বাদে প্রকাশ্য দিবালোকে বুনিয়াদি খুনের আধুনিক ভার্সন?
লেখক: কবি ও কথাসাহিত্যিক।



