চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেকের সি ওয়ার্ল্ডে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। আজ শনিবার বিকেল ৪টায় সেখানে হাজির হয়ে তিনি সবাইকে চমকে দেন। কৃত্রিম ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আনন্দে মেতেছিলেন দর্শনার্থীরা। কেউ ওয়েভ পুলে, কেউ পানিতে ঝাঁপ দিচ্ছেন, শিশুরা সাঁতার কাটায় ব্যস্ত, আবার কেউ পরিবার নিয়ে ছবি তুলছেন।
ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ
ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সি ওয়ার্ল্ডে এসেছিলেন এই অভিনেত্রী। মঞ্চে উঠে তিনি সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন, কুইজ খেলায় অংশ নেন এবং পরে গানের তালে তালে নাচেন। একপর্যায়ে সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর ‘লোকে বলে’ গানের কয়েকটি লাইন গেয়ে শোনান।
চট্টগ্রামের প্রতি ভালোবাসা
দর্শনার্থীদের উদ্দেশে নুসরাত ফারিয়া বলেন, ‘চট্টগ্রাম আমার খুব প্রিয় জায়গা। এখানে যতবার আসি, ততবারই মজা করে খাবার খাই। গরুর মাংসের কালাভুনা আমার খুব পছন্দ। মেজবানও অনেক পছন্দ করি।’ তিনি জানান, এই ঈদের দিনে ঢাকায় বসেও তিনি গরুর মাংসের কালাভুনা খেয়েছেন।
নুসরাত ফারিয়ার উপস্থিতিতে পুরো ওয়াটার পার্ক এলাকায় তৈরি হয় বাড়তি উৎসবের আমেজ। দর্শনার্থীদের অনেকেই মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন, কেউ ভিডিও করেন।
দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া
আগ্রাবাদ থেকে দুই বন্ধুর সঙ্গে এসেছিলেন মারুফা। তিনি বলেন, ‘আজ অনেক গরম ছিল। তাই ওয়াটার পার্কে চলে এসেছি। এখানে এসে দেখি নুসরাত ফারিয়াও এসেছেন। এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু সময়টা উপভোগ্য হয়েছে।’
ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। পাহাড় আর হ্রদঘেরা এই বিনোদনকেন্দ্রে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিভিন্ন রাইডের সামনে দীর্ঘ সারি। কেউ ফ্যামিলি রোলার কোস্টারে চড়ছেন, কেউ নাগরদোলায় উঠে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। শিশুদের ভিড় ছিল বাম্পার কার, সার্কাস ট্রেন, বেবি ড্রাগন ও বিভিন্ন শিশুতোষ রাইডে।
একটি সাদা রঙের বিড়াল নিয়ে পার্কে ঘুরছিলেন অনা পাটোয়ারি। তিনি জানান, তাঁদের বাড়ি ফেনীতে। পরিবারের ১০ সদস্য একসঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে এসেছেন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রিয় পোষা বিড়ালটিকেও সঙ্গে এনেছেন।
নুসরাত ফারিয়াকে সরাসরি দেখে আনন্দিত আগ্রাবাদের বাসিন্দা মোহাম্মদ রোমেল। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম তাঁকে সামনে থেকে দেখলাম। ওয়াটার পার্কে এসে এমন চমক পাব, ভাবিনি।’
ঈদের আনন্দের মিলনমেলা
ঈদের ছুটিতে ফয়’স লেক কমপ্লেক্স যেন হয়ে উঠেছে আনন্দের এক মিলনমেলা। এক পাশে পানিতে ভেজা উচ্ছ্বাস, অন্য পাশে রাইডে চড়ে শিশুদের হাসি। নুসরাত ফারিয়ার উপস্থিতি এই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।



