মরণোত্তর একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক আহমদ ছফার কবর স্থানান্তরে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। শনিবার (২৭ জুন) সকালে হাতিরঝিল পরিদর্শনে এসে তিনি বলেন, ‘ডিসি অফিসের ছাড়পত্র বাকি ছিল। সেটা এখন হয়েছে। লেখকের পরিবার চাইলে যেকোনো দিন কবর স্থানান্তর হতে পারে।’
পরিবারের উদ্বেগ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এর আগে কবর স্থানান্তরে বিলম্ব হচ্ছে—এমন তথ্য জানিয়েছিল আহমদ ছফার পরিবার। এ নিয়ে বুধবার দেশের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, ‘আহমদ ছফার কবর স্থানান্তরে সিটি করপোরেশন রাজি, জেলা প্রশাসন নীরব।’ পরদিন বৃহস্পতিবার ঢাকার ডিসি ফরিদা খানম কবর স্থানান্তরের জন্য ছাড়পত্র দিয়ে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠান।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটল
আহমদ ছফার ভাবশিষ্য বুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কবর স্থানান্তর বিলম্ব হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে নিউজ হওয়ায় কাজটা গতি পেয়েছে। ৩০ জুন আহমদ ছফার জন্মদিন ও ২৮ জুলাই তার মৃত্যুবার্ষিকী। এই সময়ের মধ্যে তার কবর স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কবরের পাশে খালি জায়গায় আহমদ ছফার নতুন কবরের স্থান ঠিক করে রাখা হয়েছে বলেও জানান সলিমুল্লাহ খান।
আবেদন ও সিটি করপোরেশনের সিদ্ধান্ত
জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কবর স্থানান্তরের বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে লিখিত আবেদন করেন আহমদ ছফার ভাতিজা সাহিত্যিক নূরুল আনোয়ার। আবেদনপত্রে লেখা হয়, ‘বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি, সমাজসেবা—প্রতিটি ক্ষেত্রে মনস্বী লেখক আহমদ ছফার অবদান রয়েছে। কিন্তু আহমদ ছফাকে এ পর্যন্ত সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। উপর্যুক্ত সম্মান প্রদর্শনের জন্য তার কবরটি সাধারণ কবরস্থান থেকে সরিয়ে বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।’ এরপর ১৩ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৪তম সভায় লেখক আহমদ ছফার মরদেহ মিরপুর কবরস্থানের সাধারণ লেন থেকে সরিয়ে বুদ্ধিজীবীতে স্থানান্তর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।



