সৃজনশীল কাজে এআই মানুষের বিকল্প নয়: স্পিলবার্গ
সৃজনশীল কাজে এআই মানুষের বিকল্প নয়: স্পিলবার্গ

হলিউডের বিখ্যাত নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, সিনেমার সৃজনশীল কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারে না। তাঁর মতে, এআইকে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু সৃজনশীল সিদ্ধান্তের ‘চূড়ান্ত কর্তৃত্ব’ কখনোই এআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়।

পডকাস্টে স্পিলবার্গের বক্তব্য

সম্প্রতি মিশেল ওবামা ও ক্রেগ রবিনসনের পডকাস্ট ‘আইএমও’-তে হাজির হয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন স্পিলবার্গ। সেখানে তিনি বলেন, চিকিৎসা বা জটিল প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে এআই কার্যকর হতে পারে। কিন্তু সিনেমা নির্মাণের মতো শিল্পমাধ্যমে মানুষের অনুভূতি, আত্মা ও অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই।

স্পিলবার্গ বলেন, ‘যেখানে এআই কোনো লেখকের জায়গা নিতে চায় বা লেখকদের টেবিলে একটি খালি চেয়ার তৈরি করে, সেটাই আমি পছন্দ করি না। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের আত্মার কোনো বিকল্প হতে পারে না। অ্যালগরিদম দিয়ে সেটা তৈরি করা সম্ভব নয়।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে সীমারেখা

‘জজ’ নির্মাতা আরও বলেন, ভবিষ্যতে লোকেশন খোঁজা বা কিছু প্রযুক্তিগত কাজে এআই হয়তো চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সময় ও শ্রম বাঁচাতে সাহায্য করবে। কিন্তু গল্প লেখা, সংলাপ তৈরি, ক্যামেরা কোথায় বসবে বা সেট কেমন হবে—এসব বিষয়ে এআই নির্দেশ দিক, সেটা তিনি চান না।

তাঁর ভাষায়, ‘আমাকে বলবে না এই চরিত্রের সংলাপ কী হবে। ক্যামেরা কোথায় যাবে, সেটাও বলে দেবে না। এআইকে টুল হিসেবে ব্যবহার করুন, কিন্তু সৃজনশীল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় তাকে বসাবেন না। এখানেই আমি সীমারেখা টানি।’

হলিউডে এআই নিয়ে উদ্বেগ

হলিউডে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে উদ্বেগ নতুন নয়। গত কয়েক বছরে লেখক ও অভিনেতাদের ধর্মঘটেও এই ইস্যু বড় হয়ে উঠেছিল। অনেকের আশঙ্কা, এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার ভবিষ্যতে শিল্পীদের কাজের সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অস্কারজয়ী অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও সম্প্রতি একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর মতে, মানুষের অনুভূতি ছাড়া কোনো শিল্পকর্ম সত্যিকারের শিল্প হয়ে উঠতে পারে না। ডিক্যাপ্রিও বলেন, ‘এআই দিয়ে তৈরি জিনিস হয়তো প্রথমে দারুণ মনে হতে পারে। কিন্তু সেখানে মানবিক অনুভূতি থাকে না। তাই সেগুলো শেষ পর্যন্ত ইন্টারনেটের অসংখ্য কনটেন্টের ভিড়ে হারিয়ে যায়।’