দামি স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন, সেই স্কুলই কেড়ে নিল ছেলের প্রাণ
দামি স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন, সেই স্কুলই কেড়ে নিল প্রাণ

‘ডাক্তার বানাবো বলে দামি স্কুলে দিয়েছিলাম, সেই স্কুলই কেড়ে নিলো আমার কলিজার প্রাণ’

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হলে সিনিয়র ছাত্রদের নির্যাতনে নিহত অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের মা শারমিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিলাপ করতে করতে এসব কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, ‘ডাক্তার বানাবো বলে ছেলেকে দামি স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলাম। সেই স্কুলই কেড়ে নিলো আমার কলিজার টুকরার প্রাণ! আমি এখন কী নিয়ে বাঁচবো? কে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলবে— আম্মু, আমি তোমাকে বিদেশ নিয়ে যাব, তোমার জন্য সুন্দর সুন্দর জামা কিনব? আহারে!’

মায়ের বিলাপ

আফসোস করতে করতে তিনি বলছিলেন, ‘বাবা আমার কবরে কেমনে থাকে? অন্ধকারে বাবা খুব ভয় পেতো, এখন তো কবরে কোনো আলো নেই। বাবারে... কতো কষ্ট দিয়ে তারা আমার বাবারে মারলো!’ মেহেদীর মায়ের কান্নার সঙ্গে ভেঙে পড়ে বাবা জিয়া উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘একটা আইফোনের জন্য আমার ছেলেকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলল! আমাকে একটা বার জানালে আমি নিজেই আইফোন কিনে দিতাম। ওরা আমার ছেলেকে এভাবে মারলো কেন?’

পরিবারের শোক

মেহেদীর নানি জানান, পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা সান্ত্বনা দিতে এলে বাবা-মায়ের শোক আরও তীব্র হয়ে উঠছে। পুরো পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

রামগঞ্জের উদয়পুরে অবস্থিত ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হলে মঙ্গলবার এক ছাত্রের মোবাইল (আইফোন) চুরির ঘটনা ঘটে। এই চুরির অপবাদ দিয়ে অষ্টম শ্রেণির আবাসিক ছাত্র মেহেদী হাসানকে হলের ভেতরে ডেকে নেয় বেশ কয়েকজন সিনিয়র ছাত্র। সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে তার ওপর চলে অমানসিক নির্যাতন। নির্যাতনের একপর্যায়ে মেহেদী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা

এ হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ফুঁসে উঠে স্থানীয় জনতা। ওই রাতেই উত্তেজিত জনতা স্কুল ক্যাম্পাসে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং তদন্তের স্বার্থে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগামী এক সপ্তাহের জন্য প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

মামলা ও গ্রেফতার

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মেহেদির বাবা জিয়াউদ্দিন বাদী হয়ে প্রধানশিক্ষসহ ১৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। প্রধান শিক্ষক আ. মান্নানকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।