শ্রীপুরে মিলাদ মাহফিলে হামলা চেষ্টা, পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ
শ্রীপুরে মিলাদ মাহফিলে হামলা চেষ্টা, পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

গাজীপুরের শ্রীপুরে কর্মস্থলে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্প পুলিশ তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় ব্লু প্ল্যানেট গ্রুপের মালিকানাধীন ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড’ কারখানার সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নারী শ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যু

শ্রমিকরা জানান, গত বুধবার (২৪ জুন) রাতে কালার অ্যান্ড কোং কারখানায় কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে মারা যান নারী শ্রমিক লিজা আক্তার। তাঁর স্মরণে আজ শনিবার সকালে কারখানার ভেতরে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে ওই কারখানার পাশাপাশি পাশের ‘বদর স্পিনিং মিলস’-এর শ্রমিকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়। সকালে শ্রমিকরা কারখানায় জড়ো হতে থাকলে একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বহিরাগতদের হামলা চেষ্টা ও পুলিশি ব্যবস্থা

কারখানার শ্রমিক রায়হান মাহমুদ জানান, মিলাদে অংশ নিতে বদর স্পিনিং মিলসের শ্রমিকরা যখন আসছিলেন, তখন তাঁদের সঙ্গে লাঠিসোঁটা হাতে একদল বহিরাগত ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। পুলিশ এতে বাধা দিলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। আরেক শ্রমিক মো. রনি বলেন, “শ্রমিকদের সঙ্গে কিছু অপরিচিত লোক এসে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছে। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। গতকাল ও আজ যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রকৃত শ্রমিকরা করেনি।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার সামনে ও আশপাশের সড়কে সহস্রাধিক শ্রমিক অবস্থান করছেন। কারখানার ভেতরেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ছিলেন। তবে বেলা ১১টার পর শ্রমিকরা ধীরে ধীরে এলাকা ছেড়ে চলে গেলে সোয়া ১১টার দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে আসে। এই ঘটনার বিষয়ে জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের বক্তব্য

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, “সকালে শ্রমিকরা কারখানায় আসার সময় কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। পরে শিল্প পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।” গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং শ্রমিকরা কারখানার সামনে থেকে সরে গেছেন।”