বরেণ্য লোকশিল্পী কুদ্দুস বয়াতির পারিবারিক আলোচনার একটি অডিও রেকর্ড গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। লোকসংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি খ্যাত এই শিল্পী বলেন, পারিবারিক আলোচনায় বলা কথা অনুমতি ছাড়া রেকর্ড করে গণমাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়া অন্যায়। তার মানসম্মান নিয়ে যেন টানাটানি না করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (৯ মে) বিকেলে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রাজিবপুর গ্রামের বাড়িতে গেলে এ নিয়ে বিস্তারিত কথা হয় লোকশিল্পী কুদ্দুস বয়াতির সঙ্গে। এ সময় তিনি দেশবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। কুদ্দুস বয়াতি আক্ষেপ করে বলেন, গত দুদিন আগে আমি আমার ঘরে বসে পারিবারিক আলোচনা করেছিলাম। তখন আমাদের নিজের লোকজন উপস্থিত ছিল। আমি আমার সন্তানদের শাসন করতে গিয়ে খোলামেলা অনেক কথাই বলেছি। কিন্তু আমার কথাগুলো যে রেকর্ড করবে- সেটা আমি জানতাম না।
রেকর্ডিংয়ের নিন্দা
কে বা কারা তখন আমার কথাগুলো রেকর্ড করে এবং তা গণ্যমাধ্যমে প্রকাশ করে। কারা রেকর্ড করেছে এবং কোথায় প্রকাশ করেছে- তা আমি এখনও জানি না। তবে আমার অনুমতি না নিয়ে এ কাজটা করা ঠিক হয়নি। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি জানি, দেশের আঠারো থেকে উনিশ কোটি মানুষ সবাই আমাকে পছন্দ করে। আমার ভক্ত। আমার কিছু হলে সবাই আমার সঙ্গে থাকবে এটা আমি জানি। কারণ, আমার লেখাপড়া নাই তো। তবে আমি লেখাপড়া শিখাইছি। আমি দেশের জন্য কাজ করি এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করি।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য আজ আমি কুদ্দুস বয়াতি। কুদ্দুইসা থাইক্যা কুদ্দুস বয়াতি হতে পেরেছি। তাই আমাকে যেন বিকৃত না করা হয় এবং আমার মানসম্মান নিয়ে যেন টানাটানি না করা হয়। বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে সব সাংবাদিকের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। নিজের সন্তান ও সম্পদের বিষয়ে কুদ্দুস বয়াতি বলেন, আমি এক টাকা থেকে শুরু করে বহু চড়াই উৎরাই পার হয়ে আজ এই পর্যন্ত এসেছি। ঢাকায় বাড়ি করেছি। গ্রামে জায়গা জমি কিনেছি এবং বাড়ি করেছি। যা আছে সবই তো আমার। সন্তানরা আমাকে বের করে দিবে কেন? তারা তো এগুলো করেনি।
পারিবারিক আলোচনা ও গোপনীয়তা
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটা পরিবারেই কষ্ট থাকে। আমার পরিবারেও আছে। এগুলো আমি প্রায়ই পারিবারিকভাবে এবং একান্ত নিজের মানুষ যারা আছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করি। কিন্তু কেউ যদি পারিবারিক আলোচনায় বলা কথাগুলো অনুমতি ছাড়া রেকর্ড করে গণমাধ্যমে প্রকাশ করে দেয় তাহলে এটা তো অন্যায়।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সময়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুদ্দুস বয়াতির কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর কুদ্দুস বয়াতি জানান, তার অনুমতি ছাড়াই ঘরোয়া আলোচনার বিষয়টি একটি চ্যানেল প্রচার করে। সর্বশেষ শনিবার এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কুদ্দুস বয়াতি।



