প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে 'আলো' প্রদর্শনী শেষ, নির্মাতা খন্দকার সুমনের অভিজ্ঞতা
প্রথম আলোর ভবনে 'আলো' প্রদর্শনী শেষ, খন্দকার সুমনের প্রতিক্রিয়া

প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে 'আলো' প্রদর্শনীর সমাপ্তি

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে আয়োজিত 'আলো' শীর্ষক শিল্প প্রদর্শনী ২ মার্চ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। এই প্রদর্শনীটি শুরু হয়েছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলার শিকার ভবনটিকে কেন্দ্র করে শিল্পী মাহবুবুর রহমানের তৈরি একটি বিশেষ আয়োজন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

খন্দকার সুমনের উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া

প্রদর্শনীর শেষ দিনে 'সাঁতাও' নির্মাতা খন্দকার সুমনসহ অনেক দর্শক অংশ নেন। তিনি প্রদর্শনী দেখে জানান, আলোই সব সময় জয়ী হয় এবং শিল্পের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কে একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী স্মৃতি তৈরি করা সম্ভব। খন্দকার সুমন বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা যে ভয়াবহতা দেখেছেন তা হয়তো একসময় বিস্মৃতিতে হারিয়ে যেত, কিন্তু শিল্পের মাধ্যমে যে মানুষের মস্তিষ্কে একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী স্মৃতি তৈরি করা যায়, সেই জায়গাটা এখানে দেখতে পেয়েছি

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখানে যখন একা মুভ করছিলাম, সব জায়গায় হেঁটে বেড়াচ্ছিলাম তখন উপলব্ধি করছিলাম মানুষ তো শুধু ত্বকের পুড়ে যাওয়ার গল্প জানে, কিন্তু এই পোড়া রোগীটার যে আত্মাটা পুড়ে যায়, প্রত্যেকটা মুহূর্তে তার আহাজারিটা এই শিল্পের ভেতর দিয়ে দেখতে পেয়েছি

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রদর্শনীর বিশেষ দিক ও বার্তা

খন্দকার সুমন প্রদর্শনীর একটি ইনস্টলেশনের প্রতি বিশেষ নজর দেন, যা কবুতরের ব্যবহারে তৈরি। তিনি বলেন, কবুতরের প্রত্যেক পাখা বারবার মনে করিয়ে দেয় যে আমরা যেন আবার পশ্চাৎপদ হচ্ছি, যেন ফিরে যাচ্ছি মধ্যযুগের দিকে। কবুতরের ডাক, পাখার নড়াচড়া, আর পোড়া গন্ধ একসঙ্গে বারবার মনে করিয়ে দেয় আলো ও অন্ধকারের লড়াইকে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে এই লড়াই চলবেই, তবে ইতিহাস প্রমাণ করেছে, আলোই সব সময় জয়ী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও যোগ করেন, আলো আছে বলে পৃথিবীতে প্রাণ আছে, এবং আলো আছে বলে বাংলাদেশে আমরা বাঁচব। এই আলোর বিনিময়ে আমাদের অস্তিত্ব ধরে রাখার বার্তাই ফুটে উঠেছে এখানে

দর্শকদের অংশগ্রহণ ও আবেগ

'আলো' শীর্ষক এই আয়োজন দেখতে এসেছিলেন সরকারের প্রতিমন্ত্রী, খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, কূটনীতিক, অভিনয়শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা। পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা আসবাব ও বইপত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। প্রদর্শনীটি শুধু একটি শিল্প প্রদর্শনী নয়, বরং একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যা প্রথম আলোর ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আলো ও সত্যের জয়গান গেয়েছে।