সৃজন পাঠচক্রে রাজীব সরকারের 'সংস্কৃতি : দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়' গ্রন্থ আলোচিত
সৃজন পাঠচক্রে রাজীব সরকারের গ্রন্থ আলোচিত

বাংলা একাডেমিতে সম্প্রতি শিল্প-সাহিত্যের সংগঠন সৃজন-এর পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের পাঠচক্রের প্রথম পর্বে বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও বিতার্কিক রাজীব সরকারের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘সংস্কৃতি : দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক ড. কুদরত-ই-হুদা এবং বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক ড. নূর-ই আলম সিদ্দিকী।

সংস্কৃতি চর্চার অভাব সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করে

আলোচনার শুরুতেই ড. নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, সুকুমার বৃত্তির পরিচর্যাহীনতা মানুষকে সৃজনশীলতা থেকে দূরে রাখে। ফলে সুযোগসন্ধানী দৃষ্টি প্রভাব বিস্তার করে এবং সৃষ্টি হয় বিচ্ছিন্নতা, যা মানুষকে সভ্যতা থেকে পেছনে ঠেলে দেয়। তখন ভেতরের মনস্তত্ত্ব মুনাফার জন্য উদ্‌গ্রীব হয়ে ওঠে এবং সত্যকে দূরে সরিয়ে দেয়। এই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে বই পড়া ও সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তাই অপরিহার্য। রাজীব সরকারের বইটিতে সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সংকট তুলে ধরা হয়েছে।

গ্রন্থে এ অঞ্চলের সংস্কৃতির প্রভাবশালী স্বরূপ ফুটে উঠেছে

‘সংস্কৃতি : দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’ বই নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ড. কুদরত-ই-হুদা বলেন, গ্রন্থটিতে এ অঞ্চলে সংস্কৃতির যে প্রভাবশালী স্বরূপ, তার রূপায়ণ ঘটেছে। পাঠবিমুখ এ প্রতিকূল সময়ে লেখকের সংস্কৃতিচর্চার নিরলস প্রচেষ্টাকে তিনি সাধুবাদ জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লেখকের বক্তব্য: সংস্কৃতিচর্চা ছাড়া উন্নয়ন অসম্পূর্ণ

দুজনের আলোচনা শেষে ‘সংস্কৃতি : দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’ বইটি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে লেখক রাজীব সরকার বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে একটি দেশ উন্নত হতে পারে না। দেশের মানুষের চিন্তা-চেতনা যদি পরিশীলিত, উদার ও মানবিক না হয়, তবে সমস্ত উন্নয়ন ব্যর্থ হয়ে যাবে। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনই শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গ করতে পারে। সংস্কৃতিচর্চাকে শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করতে তিনি আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মা দিবসের গল্প প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান

পাঠচক্রের দ্বিতীয় পর্বে সৃজন আয়োজিত মা দিবসের গল্প প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রথম পুরস্কার বিজয়ী কাজী আজমিরী, দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী আল মামুন তালুকদার এবং তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী ফারহানা আশা। পুরস্কার গ্রহণ শেষে বিজয়ীরা তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

কবি সফিকুল ইসলামের কবিতা পাঠ ও আলোচনা

পাঠচক্রের শেষ পর্বের আয়োজনে ছিল কবি সফিকুল ইসলামের স্বরচিত একক কবিতা পাঠ এবং পঠিত কবিতার ওপর আলোচনা। সফিকুল ইসলামের পড়া সাতটি কবিতা মুগ্ধ হয়ে শোনেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।

সফিকুল ইসলামের কবিতা নিয়ে কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক বলেন, কবি সফিকুল ইসলামের কবিতা সময়ের, আমাদের প্রতিদিনের আয়না। রাষ্ট্রের, সমাজের, নিজের চেহারা দেখার দিনলিপি। এই কবির ভাষা সহজ-সরল এবং দৃষ্টিভঙ্গি সরস প্রজ্ঞার। কোনো আড়াল না রেখে তাঁর কবিতার কথন স্পষ্ট কথাটাই বলে। তাঁর কবিতার বিষয় চক্ষুষ্মান যা কিছু সামনে আছে, তার সব এবং সবশেষে মানুষ। তাঁকে কবিতার ভুবনে সুস্বাগতম। সন্দেহ নেই, তিনি এই ভুবনে স্থায়ী হতেই এসেছেন অন্তরের তাগিদে, মানবিক বোধে তাড়িত হয়ে। কবি সফিকুল ইসলামকে অভিনন্দন সুখপাঠ্য, সুশ্রাব্য কবিতা শোনানোর জন্য।

সফিকুল ইসলামের কবিতা নিয়ে লেখক ও গবেষক ড. সেলিম আকন্দ বলেন, এই কবি সমাজের সমস্যা এবং সংকটকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাঁর কবিতায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান আছে। সুন্দরের প্রার্থনা আছে। তাঁর অবস্থান ন্যায়ের পক্ষে। এই কবি যদি কবিতায় আরও বেশি মনোনিবেশ করেন, তাহলে তাঁর হাত দিয়ে বাংলা কবিতা সমৃদ্ধ হতে পারে।

পঠিত কবিতার ওপর আলোচনা করতে গিয়ে কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার বলেন, সফিকুল ইসলামের কবিতায় বিরূপ সমাজবাস্তবতা, স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা, মানবিক বিপর্যয় ও হৃদয়ের উষ্ণ অনুভব প্রকাশিত হয়েছে। কবিতাগুলো বক্তব্যপ্রধান এবং দৈনন্দিন কথোপকথনের ঢঙে লেখা। ফলে খুব সহজেই পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজন

সৃজন পাঠচক্রের এই মনোমুগ্ধকর আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কবি মজিদ মাহমুদ, লেখক ও গবেষক হুসাইন মোহাম্মদ জাকি, কবি জুননু রাইন, কবি কাব্য সুমী সরকার, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ফরিদুল ইসলাম নির্জন, কথাসাহিত্যিক খালিদা তালুকদার, কবি পলিয়ার ওয়াহিদ, নাট্যনির্মাতা মিতুল খান, কবি শারমিন হক, কবি সুলেখা আক্তার, কবি মোহাম্মদ ইমদাদ হোসেন, তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা ও সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী সিনথিয়া জেরিন।