সেলিম খানের অসুস্থতা: সোহেল খানের আবেগঘন স্মৃতিচারণ
সেলিম খানের অসুস্থতা নিয়ে সোহেল খানের আবেগঘন স্মৃতিচারণ

চলতি বছরের শুরুতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বলিউডের কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার সেলিম খান। মস্তিষ্কে সামান্য রক্তক্ষরণ (ব্রেন হেমারেজ) এর পর তাঁকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েক মাস পর সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে আবেগঘন কথা বলেছেন তাঁর ছেলে, অভিনেতা-নির্মাতা সোহেল খান। সম্প্রতি রিয়ালিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’–এ অংশ নিয়ে সহপ্রতিযোগী দেলবার আর্যর সঙ্গে আলাপচারিতায় সোহেল জানান, বাবার শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁদের পরিবার একসময় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল।

বাবাকে হারানোর ভয়ে কেঁপে উঠেছিল বুক

সোহেল খান জানান, বাবা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য সেমিকোমায় চলে গিয়েছিলেন। সে সময় তিনি হাসপাতালে বাবার পাশেই ছিলেন। সোহেলের ভাষায়, ‘কয়েক সপ্তাহ আগে বাবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি সেমিকোমায় চলে গিয়েছিলেন। আমি হাসপাতালে তাঁর সঙ্গেই ছিলাম। বাবাকে হারানোর কথা ভাবতেই আমার বুক কেঁপে উঠেছিল।’

সোহেল আরও জানান, চিকিৎসকেরা পরিবারকে স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, পরিস্থিতি জটিল এবং তাঁরা সেলিম খানকে হারাতেও পারেন। ‘চিকিৎসক আমাদের সরাসরি বলেছিলেন, বাবাকে হয়তো আমরা হারাতে পারি। কথাটা শুনে আমি ভেঙে পড়েছিলাম। বাবা আর মা আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। বাবার কিছু হয়ে গেলে আমি কীভাবে স্বাভাবিক জীবন কাটাতাম, সেটাই কল্পনা করতে পারিনি। আমার কাছে তাঁরা সবকিছু,’ বলেন সোহেল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর গুরুত্ব

আলাপচারিতায় সোহেল আরও বলেন, বর্তমানে তিনি নিজের বেশির ভাগ সময় বাবা-মায়ের সঙ্গেই কাটানোর চেষ্টা করেন। সোহেলের কথায়, ‘আমি বিশ্বাস করি, কাউকে দেওয়ার সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হলো সময়। আমার সন্তানেরা এখনো ছোট, তাদের সঙ্গে অনেক সময় কাটানোর সুযোগ সামনে আছে। কিন্তু আমার মা–বাবা বয়সী হয়ে গেছেন। তাই তাঁদের সঙ্গে যতটা সম্ভব সময় কাটাতে চাই।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রিয়ালিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’–এ অংশগ্রহণের কারণ

রিয়ালিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’–এ অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও মুখ খুলেছেন সোহেল। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোহেল বলেন, এত দিন রিয়ালিটি শো করার কথা কখনো ভাবেননি। কারণ, ভাই সালমান খানকে দীর্ঘদিন ধরে এমন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে দেখেছেন। সোহেলের ভাষায়, ‘আমি জানি এ ধরনের অনুষ্ঠানে কতটা শক্তি, মানসিক চাপ আর নাটকীয়তা থাকে। তাই সব সময় মনে হতো, এটা সালমানের জায়গা, আমার নয়। কিন্তু “অ্যালায়েন্স” আলাদা। এখানে ব্যক্তিগত সংঘাতের চেয়ে বুদ্ধি, কৌশল আর পরিকল্পনার খেলা বেশি। সেই চ্যালেঞ্জটাই আমাকে আকৃষ্ট করেছে।’

বহু পরিচয়ের সোহেল খান

অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও বলিউডে পরিচিত সোহেল খান। ১৯৯৭ সালে ‘ওজার’ চলচ্চিত্র দিয়ে পরিচালনায় অভিষেক হয় সোহেলের। পরে ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’ ও ‘হ্যালো ব্রাদার’ পরিচালনা করেন। অভিনয় করেছেন ‘ম্যায়নে পেয়ার কিউ কিয়া’, ‘ফাইট ক্লাব’, ‘হিরোজ’ ও ‘টিউবলাইট’–এ।

সেলিম খানের বর্তমান অবস্থা

এদিকে সেলিম খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তিনি এখন বাড়িতেই বিশ্রামে আছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সুস্থ হয়ে ওঠার পথে রয়েছেন বলিউডের এই চিত্রনাট্যকার।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে।