১৯৯১ সালে বলিউডের ভাইজানখ্যাত অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে ‘পাত্থর কে ফুল’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন তার অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন। তবে এ সিনেমার পর বেশ কয়েক বছর তার ক্যারিয়ারে একাধিক সিনেমা ফ্লপ হয়। সেই সময়ে অভিনেত্রীকে ‘লিটল মিস জিংকস রাভিনা’ বলে ডাকা হতো। জিংকস বলতে এমন কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, যা দুর্ভাগ্য বয়ে আনে বলে মনে করা হয়।
সম্প্রতি ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাভিনা ট্যান্ডন তার পথচলা এবং কীভাবে পরিস্থিতি বদলে গিয়ে তিনি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, সেই সম্পর্কে কথা বলেন। ‘মোহরা’ সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারে একটি বড় পরিবর্তন এনেছিল বলেও জানান তিনি।
মিডিয়ার নিষ্ঠুরতা
রাভিনা ট্যান্ডন বলেন, তখনকার মিডিয়াও খুবই নিষ্ঠুর ছিল আমার প্রতি। তারা আমাকে ‘লিটল মিস জিংকস রাভিনা’ বলে ডাকত। সমালোচনা সত্ত্বেও অভিনেত্রী বিশ্বাস করতেন একটি সিনেমার সাফল্য বা ব্যর্থতা কোনো একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না। তিনি বলেন, আপনি আপনার ১০০ শতাংশ দেন, কখনো তা কাজে দেয়, কখনো দেয় না। এটা কোনো একজনের দোষ নয়।
‘মোহরা’ সিনেমার পর পরিবর্তন
১৯৯৪ সালে ‘মোহরা’ মুক্তির পর সব কিছু বদলে যায় বলে জানিয়েছেন রাভিনা ট্যান্ডন। সেদিনের স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী— কীভাবে প্রযোজক গুলশান রাই প্রকাশ্যে তাকে ‘ভাগ্যবতী’ বলে আখ্যা দিয়ে তার প্রতি সিনেমা জগতের মনোভাব পুরোপুরি বদলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তারপর হঠাৎ করেই আমি খুব ভাগ্যবতী হয়ে উঠলাম। তখন প্রযোজকরা বলতে শুরু করলেন— তাদের যাতে একটা সুযোগ দেওয়া হয়। তবে কিছু সিনেমা নির্মাতা বিশ্বাস করতেন যে, রাভিনা ট্যান্ডন অভিনীত যে কোনো সিনেমাই ফ্লপ হবে।
‘শূল’ সিনেমায় ভাবমূর্তি বদল
কিন্তু ১৯৯৯ সালে ‘শূল’ মুক্তির পর অভিনেত্রী হিসেবে তার ভাবমূর্তি বদলে যায়। এ সিনেমার মাধ্যমে গ্ল্যামারস ইমেজ ভেঙে একেবারে অন্য রাভিনা ট্যান্ডনকে তুলে ধরেছিল।
বর্তমান কাজ
উল্লেখ্য, অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন বর্তমানে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। যে সিনেমায় প্রায় ২২ বছর পর অক্ষয় কুমারের বিপরীতে দেখা যাবে।



