সন্ধ্যার মুখে সূর্যটা দিঘিতে ডুব মেরেছে, ভোরের আগে মুখ তুলবে না আর কিছুতেই। বিকেলের ফেলে যাওয়া রোশনাইয়ের আভায় চরাচর এখন নতুন বউয়ের মতো লাজুক ঘোমটা টেনে হাসছে। পাখিরা সব ঝাঁক বেঁধে উড়ে গেছে তাদের ঘরের দিকে। আকাশে সাদা আর ধূসরে তবু বার কয়েক এপার আর ওপার ভেসে বেড়াতে থাকে দুটি শ্বেতশুভ্র বিহঙ্গ। পাশাপাশি উড়ে না তারা। একের ঠোঁটে লেগে আছে আরেকটির ঠোঁট। যেন গগনে ভাসমান চুম্বনরত প্রেমিক যুগল।
‘সব পাখি ঘরে ফেরে সন্ধ্যার আগে, ওদের ফেরার তাড়া নেই কেন…’
গল্পটি পান্থুমাই গ্রামের পুরোনো বাসিন্দাদের সবার জানা। কিন্তু রুবাবা শহর থেকে এসেছে। ভার্সিটিতে পড়তে গিয়ে পরিচয় হয়েছে দুজনের। আর তাদের সেই সম্পর্ক বন্ধুত্ব থেকে গড়িয়ে প্রেমের কষ্টিপাথরে ঘষা খেতে খুব একটা সময় লাগেনি মোটে। কিন্তু প্রেম ও প্রণয়ের চূড়ান্ত পর্যায়েও রুবাবার পরিবার ওদের সম্পর্ককে মানতে রাজি না হওয়ায় বাড়ি থেকে পালিয়েছে রুবাবা। আজ বিকেলেই সে এসেছে মেঘালয় পাহাড়ের কোলে বখতিয়ারের গ্রামে। কিন্তু রুবাবার মন্ত্রী বাবা খবর পেলে এখানে এসে মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবেন বখতিয়ারের আলিঙ্গন ভেঙে। মাথার ওপর উড়ন্ত বিহঙ্গ দুটির গল্প তার জানা নেই।
আকাশের বুকে আশ্লেষে আর আহ্লাদে ভাসতে থাকা পাখি দুটির দিকে অবাক চোখ বিছিয়ে রেখে রুবাবা আবারও প্রশ্ন করে, ‘এই পাখি দুটি কি কেবল উড়তেই জানে? ওরা কি বাসা বাঁধতে চায় না, গাছে, গাছের মগডালে, কিংবা কোনো নিচু ডালের পাতার ঝুপড়িতে?’
রুবাবার হাত ধরে ইশারা করে বখতিয়ার। ঠোঁটে আরবি হরফ আলিফের মতো তর্জনী সোজা করে চুপ হতে বলে। ওদের দুজনের চোখের সামনে আরও কয়েক মুহূর্ত পাখি দুটি প্রশস্ত ডানায় মেঘের কুয়াশা মেখে নিয়ে সাদা পর্দার আড়ালে মিলিয়ে গেল। এরপর বখতিয়ার ধীরে হেঁটে যায়। মেঘালয় পাহাড় পেছনে রেখে একটা পাথরে হেলান দিয়ে নদীর জলে পা ডুবিয়ে বসে সে। রুবাবা অনুসরণ করে বখতিয়ারকে। চারপাশে সবুজ প্রকৃতি দিনের সাজ খুলে রাতের পোশাক জড়াচ্ছে গায়ে, অতি ঢিলেঢালাভাবে। দুজনের পা গলিয়ে কলকল করছে মৃদুস্রোতা পিয়াইন নদীর ধারা।
বখতিয়ারের কাঁধে মাথা রাখে রুবাবা। আরও কয়েক মুহূর্ত পর ফিসফিস করে বলে, ‘আমি এসে তোমাকে খুব বিপদে ফেলে দিয়েছি, তাই না?’
বখতিয়ার কথা বলে না। দৃষ্টির আড়ালে উদাস দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে থাকে রুবাবার মুখের দিকে। যেন রুবাবাকে দেখছে না সে। যেন রুবাবার মুখের আয়নায় ভেসে উঠেছে অন্য একটা মুখ। যার মুখ বখতিয়ার নিজে কখনো দেখেনি। যার কথা সে শুনেছে তার বাবার মুখে। বাবা শুনেছে তার বাবার মুখে। এইভাবে কত প্রজন্ম ধরে চলে আসছে সেই মুখের গল্প, তার হিসাব নেই পান্থুমাই গ্রামের কারও কাছে।
কুমুর গল্প
মন্ত্রমুগ্ধের মতো বখতিয়ারের গল্প শুনতে থাকে রুবাবা। কুমুর মুখ কল্পনা করার বৃথা চেষ্টা করে ঝাপসা আলোয় পিয়াইন নদীর রুপা গলা স্রোতে। আর অন্যদিকে, ওঠানামাহীন একটানা স্বরে গল্প বলে চলে বখতিয়ার। অদূরে, উঁচু পাহাড় থেকে নামতে থাকা আগ্রাসী ঝরনাজলের শব্দ নৈসর্গিক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তৈরি করেছে ওদের কানে। বখতিয়ারের মুখে দশটি তালা ঝুলছে যেন। রুবাবার হৃদয়ের সহস্র প্রকোষ্ঠের সবগুলো দরজা হাঁ করে খোলা। কিন্তু রুবাবা মুখ খোলে না। নীরবতারও একটি আলাদা ভাষা আছে। নিবিড়ভাবে কান পাততে জানলে তার পাঠোদ্ধার করা সম্ভব।
তন্দ্রাচ্ছন্নের মতো বখতিয়ার গল্প বলতে আরম্ভ করে: ‘সে কোন যুগের কথা জানি না। কত হাজার যুগ আগের গল্প, তা–ও বলতে পারি না, রুবা। মেয়েটির নাম ছিল কুমু। কুমকুমের মতো তরল ছিল তার সারল্য। শোনা যায় আঁতুড়ঘরে যখন সে মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল, কুপি জ্বালা ঘরটা তখন হ্যাজাক বাতির আলোর মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। রূপের আধার কন্যা গুণেও ষোলোকলায় পূর্ণ হয়ে বড় হতে থাকে। আশপাশের অনেক গ্রামে কুমুর রূপের ছটা ঝলমল করে। ঋতুস্রাব হওয়ার আগেই কুমুর পাণিপ্রার্থী হয় শতেক রাজা মহারাজার পুত্ররা। চাইলে সে স্বয়ংবরা হতে পারত। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে যার নিয়তি লিখে রেখেছেন মৃত্যুতে, সে কেন পারবে রাজকন্যা হয়ে সুখে জীবনযাপন করতে!’
মন্ত্রমুগ্ধের মতো বখতিয়ারের গল্প শুনতে থাকে রুবাবা। কুমুর মুখ কল্পনা করার বৃথা চেষ্টা করে ঝাপসা আলোয় পিয়াইন নদীর রুপা গলা স্রোতে। আর অন্যদিকে, ওঠানামাহীন একটানা স্বরে গল্প বলে চলে বখতিয়ার।
‘কুমুর প্রেম হয়েছিল বাড়ির রাখাল ছেলে, চন্দনের সঙ্গে। ছেলেটা চমৎকার বাঁশি বাজাত। বাঁশির সুরে নাকি চন্দনের সারল্যে কুমু অমন একটা চাকর গোছের মানুষকে নিজের মূল্যবান হৃদয়টি দিয়ে দিয়েছিল, কেউ জানে না। কিন্তু ওরা দুটি অনেক দিন ধরে প্রেম করেছে। বাড়ির কেউ কখনো সন্দেহ করেনি। কারণ, এমন একটা ঘটনা যে ঘটতে পারে, এটা কারও কল্পনাতেই আসেনি। অনেক রাতেই চন্দন গোয়ালঘর থেকে বের হয়ে চলে যেত কুমুর জানালায়। খুটখুট শব্দে জানালা খুলে দিয়েছে কুমু। এরপর সারা রাত দুজনের বিনিময় হয়েছে অনেক অনেক কথা। কখনো দুজনের মধ্যে থাকত একটা খড়ের বেড়া। কখনো শুধু জানালা খুলে দুজন দুজনের হাত ছুঁয়ে থাকা। আবার কখনো কখনো মাটির বিছানায় দুটিতে লেপ্টে জড়িয়ে থাকা।’
‘কুমুর গায়েহলুদের রাতে গমের মদ খেয়ে সবাই যখন বেহুঁশ, চাঁদের আলোয় কুমু তখন বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। সকালেই যার বিয়ে, তাকে পাহারা দিয়ে রাখতে হবে, এমন কথা কারও মনেই আসেনি। উঠানে পড়ে থাকা ঘুমন্ত শরীরগুলো ডিঙিয়ে ধীর পায়ে কুমু গিয়ে পৌঁছায় ঝরনার অনেকটা উঁচুতে।
‘কুমুর বাড়িতে ব্যাপারটা জেনে যাওয়ার পর কী ঘটেছিল?’ রুবাবা প্রশ্ন করে।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বখতিয়ার। আলতো করে একটা চুমু খায় প্রেমিকার কপালে। বলে: ‘একদিন সকালে ওদের ঘুম ভাঙতে দেরি হয়েছিল। ফলে ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে যায়। কুমুর ঘরে পাওয়া গেছে চন্দনকে। কুমুর মেজাজি বাবার ভয়ংকর গর্জনে এলাকার অনেক মানুষ হাজির হয়ে যায় কয়েক মিনিটের মধ্যে। কুমু অথবা চন্দন কাউকেই কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তারা চন্দনকে বেদম পেটাতে আরম্ভ করে। ষোলো–সতেরো বছরের একটা ছেলে, এতগুলো বলিষ্ঠ পেশির মার সহ্য করতে পারেনি বেশিক্ষণ। কুমুর চোখের সামনেই রোগা শীর্ণ রক্তাক্ত শরীরটি নিথর হয়ে যায়।’
‘আহা, মানুষ কত নিষ্ঠুর হয়! নিজের প্রাণটি ছাড়া অন্যের প্রাণের কোনো মূল্যই নেই তাদের কাছে!’ রুবাবা আর্তনাদ করে ওঠে। আরেকটু বেশি ভালোবেসে জড়িয়ে ধরে সে বখতিয়ারকে, ফিসফিস করে বলে, ‘এরপর কুমুর কী হলো গো?’
‘চন্দনের মৃত্যুর পর মাসখানেক কুমু বেশ স্বাভাবিক ছিল। সবাই ভেবেছিল, আউট অব সাইড ইজ আউট অব মাইন্ড। কুমুর জন্য তারা বিয়ের পাত্র দেখতে আরম্ভ করে। কুমু আপত্তি করে না। এমনকি কুমুর বিয়েও ঠিক করা হলো পাশের গ্রামের মাতব্বরের ছেলের সঙ্গে। সবাই অপেক্ষা করছিল, একবার কুমু শ্বশুরবাড়ি চলে গেলে ওর মাথা থেকে চন্দনের ভূত পুরোপুরি নেমে যাবে। কিন্তু বাড়ির কেউ তো সেই ঘটনাটা জানতই না যে চন্দনের মৃত্যুর পর থেকে প্রতি রাতেই কুমুর ঘর ভরে যায় বুনোফুলের গন্ধে, বেঁচে থাকতে যেসব ফুল চন্দন উপহার আনত কুমুর জন্য দূর দূর জঙ্গল থেকে। রাতভর কুমুর ঘরে বাঁশির সুর বাজে, ঠিক যেমন মধুর সুরে বাঁশি বাজাত চন্দন নিজে। চন্দনের মৃত্যুর পর কুমু তো আর আগের কুমু ছিল না, একটা কাপড়ের পুতুলের মতো সে শুধু হাঁটত, হাসত, খেলত, আর ঘুমাত। আর এত দিনে একবারও কুমু চন্দনের নাম করে কাঁদেনি।’
‘আহা, হয়তো অধিক শোকে মেয়েটা পাথর হয়ে গিয়েছিল!’
‘কুমুর গায়েহলুদের রাতে গমের মদ খেয়ে সবাই যখন বেহুঁশ, চাঁদের আলোয় কুমু তখন বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। সকালেই যার বিয়ে, তাকে পাহারা দিয়ে রাখতে হবে, এমন কথা কারও মনেই আসেনি। উঠানে পড়ে থাকা ঘুমন্ত শরীরগুলো ডিঙিয়ে ধীর পায়ে কুমু গিয়ে পৌঁছায় ঝরনার অনেকটা উঁচুতে। অনেকক্ষণ উঠতে উঠেতে ক্লান্ত কুমু একসময় হাঁপাতে থাকে। পাথরের গায়ে হেলান দিয়ে নিচে কুয়াশার মতো উড়তে থাকা জলবিন্দুর দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। আচমকা চিৎকার করে কাঁদে। আচমকা তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। আচমকা সে চন্দনের স্পর্শ অনুভব করে তার সর্বাঙ্গে। চন্দন যেন সুরভিত চন্দনের গুঁড়ো হয়ে জোছনার আলোয় গলে গলে পড়ছে কুমুর প্রতিটি রোমকূপে। মোহাচ্ছন্ন কুমুর বাস্তবজ্ঞান লোপ পেয়ে যায়। ঝরনার ওই উঁচু ভাঁজ থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে সে।’
‘কেউ দেখেনি কুমুর এই আত্মহত্যা?’ রুবাবা জানতে চায়।
চোখ মুছে বখতিয়ার দুই করতলে উঁচু করে ধরে রুবাবার মুখ। একটা গাঢ় চুম্বন করে ওর পাতলা দুই ঠোঁটে। তারপর বলে, ‘রুবা তুমি কি চাও আমরাও ওদের মতো পাখি হয়ে যাই আজীবনের জন্য? নাকি আগামীকাল সকাল থেকে মেনে নেব আমাদের চির বিচ্ছেদ?
‘নিচের নদীতে মাঝরাতে বাড়ি ফিরছিল কয়েকজন জেলে। নৌকার খোলে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে ডেকেছে তারা, কুমুকে সাবধান করতে। আর জেলেদের চোখের সামনে কুমু নদীর দিকে পড়তে পড়তে একবার থমকে গিয়েছিল। একটা নারী শরীর অনেক উঁচু থেকে পড়তে পড়তে আশ্চর্যজনকভাবে আর মানুষ থাকেনি। কুমু একটা ছোট্ট পাখি হয়ে উড়তে আরম্ভ করেছে ততক্ষণে।’
বিস্ময়ে বখতিয়ারের পেটের কাছটা খামচে ধরে রুবাবা। রুবাবার চোখের জলে ভিজে যেতে থাকে বখতিয়ারের সাদা শার্ট।
বখতিয়ার শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রুবাবাকে। প্রেমিকাকে বুকের সঙ্গে মিলিয়ে রেখে বলে, ‘আশ্চর্যের ঘটনা হচ্ছে, কুমু যখন পাখি হয়ে উড়তে আরম্ভ করেছে, ঠিক তখন আকাশের বুক ফুঁড়ে আরেকটা শুভ্র সাদা পাখি উড়ে আসে কুমু-পাখির কাছে। পাখিটা এসে ঠোঁট মেলায় এই পাখির সঙ্গে। তারপর পাখি দুটি ঠোঁটে ঠোঁট রেখে উড়তে উড়তে হারিয়ে যায় ঘোলা আকাশের অজানায়।’
‘ওদের আর কেউ দেখেনি, কোনো দিন?’
‘প্রায়ই দেখা যায়। আকাশের বুকে যখনই দুটি ঠোঁটে ঠোঁট লাগানো পাখি দেখা যায়, এই গ্রামের মানুষজন কাজ থামিয়ে নিথর হয়ে থাকে। কারণ, ওদের দুজনের ভালোবাসার সময় কেউ বিঘ্ন ঘটাতে চায় না। গ্রামের সবাই বলে, দুটি অকাল প্রাণ ঝরে গেছে পৃথিবীর মানুষের নিষ্ঠুরতায়। এবার পাখি হয়ে ওরা ভালোবাসাবাসি করুক না ওদের ইচ্ছেমতো, ওই অনন্ত নীলিমায়!’
চোখ মুছে বখতিয়ার দুই করতলে উঁচু করে ধরে রুবাবার মুখ। একটা গাঢ় চুম্বন করে ওর পাতলা দুই ঠোঁটে। তারপর বলে, ‘রুবা তুমি কি চাও আমরাও ওদের মতো পাখি হয়ে যাই আজীবনের জন্য? নাকি আগামীকাল সকাল থেকে মেনে নেব আমাদের চির বিচ্ছেদ? কারণ, সকালের আলো ফোটার আগেই তোমার বাবার লোকজন এসে ঘিরে ফেলবে আমাদের এই গ্রাম। মন্ত্রীর মেয়েকে লুকিয়ে রাখার অপরাধে তারা আমাদের পুরো গ্রাম পুড়িয়ে দিতে পারে।’
কাতর চোখে দুজন তাকিয়ে থাকে দুজনের মুখের দিকে। প্রেম, ভালোবাসা, মায়া, হৃদ্যতার আলো খেলে যেতে থাকে একে একে দুজনের চোখে। আর একই সঙ্গে ওদের মনের মধ্যে বেজে ওঠে ঠাকুরের গান, ‘সুন্দর হে সুন্দর, এই জনমে ঘটালে মোর জন্ম-জনমান্তর…’ এরপর তারা দুজনের কেউই সিদ্ধান্ত নিতে সামান্যতম সময় নেয় না। হাত ধরাধরি করে দুটিতে উঠে দাঁড়ায় পাথরের কোল থেকে। হাতের মুঠোয় হাত চেপে দুজনে এগিয়ে চলে পাথুরে মাটিতে। গন্তব্য, অদূরে পাহাড়ের বুক চিরে নামতে থাকা ঝরনার খাদ। পাংথুমাইয়ের আকাশে এরপর থেকে হয়তো আর কেবল একটি নয়, বরং দুটি ধবল বিহঙ্গ যুগলের উড়াল-চুম্বন দেখতে পাওয়া যাবে। আর যুগযুগান্তর ধরে আকাশে ভেসে বেড়াতে থাকবে সেই জোড়া পাখির প্রেম, যত দিন না পৃথিবীতে মানুষের ভালোবাসা অধিক ক্ষমতাধর হবে তার নির্মম ক্রোধ ও নিষ্ঠুরতার বিপরীতে!



