সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সায়নী চক্রবর্তীর আত্মহত্যা, শোকে অনুসারীরা
সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সায়নী চক্রবর্তীর আত্মহত্যা

জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তী মারা গেছেন। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে তিনি 'সুন্দরী'র দিদি নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। পোষ্য গরু 'সুন্দরী'কে নিয়ে বানানো ভিডিও নিয়মিত ছড়িয়ে পড়ত সামাজিক মাধ্যমে। হাসিখুশি মুখ, ঘরোয়া উপস্থাপনা আর পোষ্যদের প্রতি মমতার কারণে অল্প সময়েই তিনি অনুসারী তৈরি করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোক নেমে এসেছে অনুসারীদের মধ্যে।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সায়নী আত্মহত্যা করেছেন। তবে কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। একই সঙ্গে এক তরুণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল বলে জানা গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সায়নীকে। পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় চুঁচুড়া ইমামপাড়া হাসপাতালে। সেখানেই ময়নাতদন্ত করা হয়।

পুলিশের তদন্ত

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে অভিযোগ করা হতে পারে বলে তাঁরা জেনেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সায়নীর জনপ্রিয়তা

সায়নীর জনপ্রিয়তার বড় কারণ ছিল তাঁর ভিডিওর সহজ-সরল উপস্থাপনা। সাজানো বা অতিরিক্ত নাটকীয় কিছু নয়, বরং নিজের দৈনন্দিন জীবন, পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটানো আর পরিবারের ছোট ছোট মুহূর্ত জায়গা পেত তাঁর ভ্লগে। বিশেষ করে 'সুন্দরী' নামের পোষ্য গরুটিকে নিয়ে তৈরি ভিডিও দর্শকের মধ্যে আলাদা জনপ্রিয়তা পায়। অনেকেই মন্তব্য করতেন, সায়নীর ভিডিও দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা

সায়নীর মা মলি চক্রবর্তীরও সামাজিক মাধ্যমে আলাদা পরিচিতি রয়েছে। মা-মেয়ে প্রায়ই একসঙ্গে ভিডিও বানাতেন। তাঁদের পেজে পোষ্যদের দেখাশোনা, বাড়ির খুনসুটি কিংবা সাধারণ দিনের নানা মুহূর্ত উঠে আসত। বৃহস্পতিবার সকালেও মলি চক্রবর্তীর পেজ থেকে ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানেও পোষ্যদের দেখা যায়। এরপরই আসে সায়নীর মৃত্যুর খবর।

শিক্ষা ও অন্যান্য কাজ

জানা গেছে, সায়নী আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। সম্প্রতি এলএলবি সম্পন্ন করেন। সমাবর্তনের কিছু ছবি ও ভিডিও তিনি পোস্ট করেছিলেন সামাজিক মাধ্যমে। পড়াশোনার পাশাপাশি কনটেন্ট তৈরিও চালিয়ে যাচ্ছিলেন নিয়মিত। বাইক চালানো ছিল তাঁর খুব প্রিয়। জিনস কিংবা শাড়ি—দুই ধরনের পোশাকেই বাইক রাইডের ভিডিও পোস্ট করতেন তিনি। ভিডিওগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল। মাঝেমধ্যে ব্রাইডাল মডেল হিসেবেও কাজ করতেন সায়নী। তাঁর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কনের সাজে বেশ কিছু ছবি ও রিল রয়েছে। এমনকি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা তাঁর শেষ রিলটিও ছিল বিয়ের সাজে। সেখানে একটি পুরোনো বাংলা গানের সঙ্গে লিপ মিলিয়েছিলেন তিনি। সেই ভিডিও ঘিরেও এখন নানা আলোচনা চলছে সামাজিক মাধ্যমে।

অনুসারীদের প্রতিক্রিয়া

সায়নীর অনুসারীসংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। তাঁর অনুসারীদের অনেকের কাছেই তিনি শুধু কনটেন্ট ক্রিয়েটর ছিলেন না, বরং এক পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তাই আচমকা তাঁর মৃত্যুতে অনেকে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দিচ্ছেন। কেউ লিখছেন, 'ভিডিও দেখে কখনো বুঝিনি, মেয়েটা ভেতরে এত কষ্টে ছিল।' আবার কেউ বলছেন, 'সব সময় হাসিখুশি থাকা মানুষও ভেতরে ভেতরে লড়াই করতে পারেন।'