ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে আলোচিত অ্যালবিনো জাতের সাদা মহিষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে ভাইরাল হওয়া প্রাণীটিকে দেখতে শুক্রবার সকাল থেকেই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
বিরল প্রাণীর বৈশিষ্ট্য
বিরল গোলাপি-সাদা অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটির মাথায় সোনালি রঙের লোম এবং চোখের ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারি শখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে এর নাম রাখেন। পরে মহিষটি নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, ফক্স নিউজ থেকে শুরু করে দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, এএফপি ও রয়টার্সেও এটি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
কোরবানি থেকে রক্ষা
এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে কোরবানি থেকে বাদ পড়ে মহিষটি। সংরক্ষণের জন্য সেটিকে রাখা হয় জাতীয় চিড়িয়াখানায়। ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশের আগ্রহের কেন্দ্র ছিল এই মহিষটি।
প্রদর্শনী ব্যবস্থা
চিড়িয়াখানার ‘এল-৭’ নম্বর শেডে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মহিষটিকে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাঁচার সামনে দেওয়া পরিচয়ে লেখা ছিল ‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’। সেখানে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘অ্যালবিনো বাফেলো’। একাধিক গণমাধ্যমের ফটো সাংবাদিকরা সেই ছবিও তুলেছেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন। তবে শুক্রবার সেই পরিচয়ের নামফলকটি আর দেখা যায়নি। অবশ্য চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে আজ কয়েকটি গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, নতুন ও বিরল প্রাণী হওয়ায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেশি। বুধবার রাতে মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। বর্তমানে সেটিকে নির্দিষ্ট শেডে রাখা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের আগ্রহ
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নামটি সরিয়ে ফেললেও দর্শনার্থীদের আগ্রহে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। আজ শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক দর্শনার্থী মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে এসে প্রাণীটিকে কাছ থেকে দেখছেন। খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে অনেককে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প কোথায়?’ বলেও খোঁজ নিতে দেখা যায়।
নামকরণের ইতিহাস
প্রসঙ্গত, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামটি প্রথম দেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে। খামার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মহিষটির মাথার সামনের সোনালি-সাদা ঢেউখেলানো চুল ও চেহারার কিছু বৈশিষ্ট্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিল থাকায় মজা করেই এমন নাম রাখা হয়েছিল।
মে মাসজুড়ে মহিষটি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ওই খামারে ভিড় করেন। দেশীয় সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও প্রাণীটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে জিঞ্জিরার ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মহিষটি কিনে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মহিষটি দেখতে ভিড় করছিল বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান। পরে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের পর প্রাণীটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বুধবার রাতে মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়। নামফলক সরিয়ে ফেললেও দর্শনার্থীদের কাছে এখনও প্রাণীটি ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামেই পরিচিত।



