জামালপুরে রবীন্দ্র-পাঠ্যোৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
জামালপুরে রবীন্দ্র-পাঠ্যোৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের সঙ্গে জামালপুর বন্ধুসভার বন্ধুরাছবি: বন্ধুসভা‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক’—কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কালজয়ী বাণীকে ধারণ করে জামালপুরের দেওয়ানপাড়ায় ধ্বনিত হলো শান্তি ও মানবতার জয়গান। বিশ্বকবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ৮ মে বিকেলে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় ‘রবীন্দ্র-পাঠ্যোৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’। যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জামালপুর বন্ধুসভা এবং ভাষা ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মতি মিয়া ফাউন্ডেশন পাঠাগার।

‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’ প্রতিপাদ্যে বিকেলের স্নিগ্ধ আলোয় পাঠাগার চত্বরে আয়োজিত বই প্রদর্শনী এবং ছবি ও পোস্টার প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের বিমোহিত করে। এরপর শুরু হয় উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ বই নিয়ে আড্ডা ও বিশেষ পাঠচক্র। এতে রবীন্দ্র-সাহিত্যের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনায় মেতে ওঠেন বন্ধুসভার বন্ধুরা।

আলোচনা পর্বে কবি আলী জহির বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ কেবল একটি নাম নয়, তিনি বাঙালির চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর সাহিত্য আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে ক্ষুদ্র গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমানবতার সঙ্গে যুক্ত হতে হয়।’ কবি শেখ ফজল যোগ করেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন মূলত প্রেমের ও প্রকৃতির কবি। তবে তাঁর দেশপ্রেমের যে সুর আমাদের রক্তে মিশে আছে, তা আজও অতুলনীয়।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামালপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মনোয়ার হুসেন বলেন, ‘সাংস্কৃতিক জাগরণ ছাড়া একটি জাতি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ আমাদের সেই সাংস্কৃতিক মেরুদণ্ড।’ উপদেষ্টা মোজাহিদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প ও কবিতার গভীরতা তুলে ধরেন এবং তাঁর মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান সমাজে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপদেষ্টা হিশাম আল মহান্নাভ তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একটি জাতির মেধা ও মনন বিকাশে পাঠাগারের ভূমিকা অপরিসীম। উপদেষ্টা হিসেবে আমি মনে করি, তরুণ প্রজন্ম যদি রবীন্দ্র-সাহিত্য ও আমাদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস পাঠে মনোযোগী হয়, তবেই একটি সুন্দর সমাজ গঠন সম্ভব।’ তিনি তাঁর বক্তব্যের শেষে জামালপুর বন্ধুসভার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

জামালপুর বন্ধুসভা এবং ভাষা ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মতি মিয়া ফাউন্ডেশন পাঠাগারের উদ্যোগে রবীন্দ্র-পাঠ্যোৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানছবি: বন্ধুসভাভাষা ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মতি মিয়া ফাউন্ডেশন পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের এই পাঠাগার কেবল বইয়ের সংগ্রহশালা নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। আজকের এই আয়োজনটি পূর্ণতা পেয়েছে জামালপুর বন্ধুসভার বন্ধুদের অক্লান্ত পরিশ্রমে। তাঁদের এই সৃষ্টিশীল উদ্যমকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

জামালপুর বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম খান বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানেই এক বিশাল আকাশ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এই আয়োজনে পাশে থাকার জন্য সব বন্ধু ও পাঠাগার কর্তৃপক্ষকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।’

রবীন্দ্র-জিজ্ঞাসাকে শাণিত করতে আয়োজিত ‘রবীন্দ্র-কুইজ’ সবার মধ্যে বিশেষ উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন বন্ধুসভার সহসাংগঠনিক সম্পাদক বাকি বিল্লাহ্, কার্যনির্বাহী সদস্য শামীম মিয়া ও বন্ধু আবিরা চৌধুরী।

সন্ধ্যার নীলিমায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী কবিতা ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ আবৃত্তি করেন রোদসী ও মাহী। জাইফ অত্যন্ত আবৃত্তি করেন ‘বীরপুরুষ’ কবিতাটি। অন্যতম আকর্ষণ ছিল রবীন্দ্রসংগীত। সুর লহরী পরিবেশন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মিয়া, উপদেষ্টা মোজাহিদুর রহমান ও ভাষা ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মতি মিয়া ফাউন্ডেশন পাঠাগারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর মুখার্জী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামালপুর বন্ধুসভার সভাপতি অন্তরা চৌধুরী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক বাকি বিল্লাহ্, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক নুসরাত শৈলী, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক মো. হৃদয়, বইমেলা সম্পাদক নাইমুল শাকিল, ম্যাগাজিন সম্পাদক সিয়াম আহম্মেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য শামীম মিয়া, বন্ধু পলি নাছির, রওশন আরা বিপ্লবী, মাসুদ, আবিরা চৌধুরী, ইখতিয়ার হাসান খানসহ অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ও সদস্যরা।