রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার শ্রমিক দিবসে ভ্যানচালককে গামছা উপহার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার শ্রমিক দিবসে গামছা বিতরণ

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে। আজ শুক্রবার সকালে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে গামছা বিতরণ করা হয়। এই ছোট উপহার তাঁদের মুখে এনে দেয় একচিলতে হাসি।

৭৩ বছর বয়সী ভ্যানচালকের গল্প

সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড দিয়ে যাচ্ছিলেন এক বৃদ্ধ ভ্যানচালক। তাঁর নাম মো. আবদুল্লাহ, বয়স ৭৩। জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও তিনি থেমে যাননি। বাস্তবতা ও সংসারের ভার কাঁধে নিয়ে প্রতিদিন ভ্যান নিয়ে বের হন জীবিকার সন্ধানে। তিনি বলেন, 'বয়স হইছে, শরীর আর আগের মতো চলে না। তবু থামার উপায় নাই। কাজ না করলে সংসার চলবে কেমনে? ছোটবেলা থেকে কাজ করি, এখনো করি। এইটাই আমার জীবন।'

রোদ, বৃষ্টি, ক্লান্তি—সবকিছুকে সঙ্গী করেই আবদুল্লাহর দিন কাটে। জীবনের কাছে তিনি হার মানেননি। এটা শুধু তাঁর নিজের গল্প নয়, বরং দেশের শ্রমজীবী মানুষদের নীরব সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। যাঁদের শরীরের ঘাম আর পরিশ্রমে প্রতিদিনের জীবন সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে ওঠে, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়েই এই আয়োজন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বন্ধুসভার বক্তব্য

বন্ধুসভার এ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে রাজশাহী বন্ধুসভার উপদেষ্টা তুহিনুজ্জামান বলেন, '“শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তাঁর পারিশ্রমিক দিয়ে দাও”—মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর এই বাণী শ্রমের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শ্রম শুধু কাজ নয়, এটি সম্মান ও অধিকার।'

বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রাবন্তী সরকার বলেন, 'গত বছর গবেষণার কাজে শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও বাস্তবতা নিয়ে কাজ করার সময় তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। অনেক শ্রমজীবী মানুষ প্রতিদিন কাজ পান না। তাঁরা ভোরের দিকে কাজের আশায় বের হন এবং কখনো বেলা একটা পর্যন্ত কাঁধে কোদাল ও হাতে ঝুড়ি নিয়ে অপেক্ষা করেন। অনেক সময় কাজ পান, আবার অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। এটাই তাদের নিত্যদিনের সংগ্রাম।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বাঁধন রায় বলেন, 'বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। তাঁরা যেন নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হন এবং সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই তাঁদের এই উদ্যোগ।'

সভাপতি সুইটি রাণী বলেন, 'সমাজের এই নীরব পরিশ্রমী মানুষদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁদের ঘামেই গড়ে ওঠে আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাচ্ছন্দ্য। তাই তাঁদের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।'

অন্যান্য উপস্থিতি

বন্ধুসভার এই কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বন্ধুসভার উপদেষ্টা সিফাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসিফ উদ্দিন, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক বায়েজীদ হায়দার, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. নাইম হাসান, সদস্য মাসুম বিল্লাহ ও প্রীতিদীপ্ত রায়।