দক্ষিণ কোরিয়ায় আসন্ন তৃতীয় স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিনোদন জগতে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক রঙের বিতর্ক। লাল রঙের পোশাক এবং লাল চুলের ছবি পোস্ট করে নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন দেশটির তরুণ গায়িকা লি ইয়ং-জি। তবে বিতর্ক ডালপালা মেলার আগেই তিনি ক্ষমা চেয়ে পোস্টটি ডিলিট করে দেন। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হতে না হতেই এ বিষয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে এটিকে নতুন করে উসকে দিয়েছেন গায়ক জে কে কিম ডং-উক।
বিতর্কের সূত্রপাত
বিতর্কের সূত্রপাত রোববার (৩১ মে)। এদিন গায়িকা লি ইয়ং-জি তার ইনস্টাগ্রামে লাল চুল ও লাল রঙের পোশাক পরা একটি সেলফি পোস্ট করেন। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে তিনি যুক্ত করেছিলেন কর্টিস ব্যান্ডের ‘REDRED’ গানটি। সামনেই দক্ষিণ কোরিয়ায় নির্বাচন থাকায় নেটিজেন ও সমালোচকদের একটি বড় অংশ দাবি করতে থাকেন, এই লাল রঙ দিয়ে লি ইয়ং-জি মূলত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করছেন।
কোরীয় প্রথা
কোরিয়ায় সাধারণত নির্বাচনের আগে বিনোদন অঙ্গনের তারকারা আঙুল দিয়ে কোনো প্রতীক দেখানো বা নির্দিষ্ট রঙের পোশাক পরা থেকে বিরত থাকেন, যেন তাদের ঘিরে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন না ওঠে।
ক্ষমা প্রার্থনা
বিতর্ক দানা বাঁধতেই লি ইয়ং-জি দেরি না করে পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং কালো চুলে ডাই করা নতুন ছবি পোস্ট করে ক্ষমা প্রার্থনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট জানতাম এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়, তাও অসচেতনভাবে ছবিটি পোস্ট করে ফেলেছিলাম। আমি অজ্ঞতার অজুহাত দিয়ে লুকিয়ে থাকতে চাই না। নিজের এই অবিবেচকের মতো আচরণের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী এবং এটি থেকে আমি শিক্ষা নেব।’
জে কে কিম ডং-উকের প্রতিক্রিয়া
লি ইয়ং-জির দ্রুত ক্ষমা চাওয়ার পর পরিস্থিতি যখন প্রায় শান্ত, তখনই এ বিষয়ে মুখ খোলেন আরেক গায়ক জে কে কিম ডং-উক। নেটপাড়ার এই অতি-সংবেদনশীলতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘চারিদিকে সব কিছু নিয়েই যেন বাড়াবাড়ি চলছে।’ বডিশেমিং বা এ ধরনের ট্রলিংয়ের মানসিকতাকে আক্রমণ করে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এখন কি মানুষ চুলের রঙ নিয়েও এত হুজুগ তুলবে? এটা অত্যন্ত নিম্নমানের মানসিকতা।’ তবে কিম ডং-উক এ মন্তব্যের মাধ্যমে একদিকে লি ইয়ং-জির পাশে দাঁড়ালেও, পরোক্ষভাবে বিতর্কটিকে আবারও যেন আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসলেন।
জে কে কিম ডং-উকের রাজনৈতিক অবস্থান
উল্লেখ্য, জে কে কিম ডং-উক কোরিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে বরাবরই বেশ সরব। গত বছরের ইমপিচমেন্টের রাজনৈতিক আবহাওয়ার সময় তিনি প্রকাশ্যেই ইউন সুক-ইওলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি স্টারবাকসের একটি বিতর্কিত মার্কেটিং ক্যাম্পেইন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি তার স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করেছিলেন।
সূত্র: স্টারনিউজ



