গ্রীষ্মের জ্যৈষ্ঠেই ফুটল কদম ফুল, বর্ষার আগমনী বার্তা
গ্রীষ্মের জ্যৈষ্ঠেই ফুটল কদম ফুল, বর্ষার আগমনী

কদমগাছে শাখায় শাখায় এখন ফুলের সমাবেশ। শনিবার সকালে মৌলভীবাজার শহর-সংলগ্ন মনু নদের পাড়ে দেখা গেছে, কদমগাছ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। বর্ষা আসতে আরও কিছুদিন বাকি থাকলেও, ঋতুর চক্রে এখনো ঝরঝর বাদলের সময় আসেনি। তবু বাদলের সঙ্গে এরই মধ্যে অনেকবার দেখা হয়ে গেছে। বর্ষা যে আসছে—‘বাদল–দিনের প্রথম কদম ফুল’ ফুটবে। সেই কদমগাছ এই গ্রীষ্মে, জ্যৈষ্ঠেই ডালে ডালে, শাখা-প্রশাখায় ফুল ফুটিয়ে জানিয়ে দিয়েছে—আমি এসে গেছি।

নিসর্গবিদের ভাষায় কদম

নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা তাঁর ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বইয়ে কদম ফুল নিয়ে বলেছেন, ‘কদম আমাদের অনুপম প্রকৃতির আত্মজ। বর্ণে গন্ধে সৌন্দর্যে কদম এ দেশের রূপসী তরুর প্রথমদের অন্যতম।’ কদমের সৌন্দর্য বর্ণনাতীত। বলের মতো গোল, মাংসল পুষ্পাধারে অজস্র সরু সরু ফুলের বিন্যাস। পূর্ণ মঞ্জরিকেই একটি ফুল মনে হয়।

মনু নদের পাড়ে কদমের মেলা

মৌলভীবাজার শহরের শান্তিবাগ-সংলগ্ন মনু নদের পাড়ে ছোট ও মাঝারি আকারের অনেকগুলো কদমগাছ আছে। কয়েক বছরে গাছগুলো একটু একটু করে বেড়ে উঠেছে। নদের পাড়টিকে ছায়াময় করেছে। গত বর্ষায় হয়তো বিচ্ছিন্নভাবে এক-দুটি ফুল ফুটেছিল, যা কারও চোখে পড়েছে, কারও পড়েনি। তবে এবার এত উজাড় করা ভালোবাসা নিয়ে ফুল এসেছে—গাছ থেকে চোখ সরাবে, কারও সাধ্য নেই।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আজ শনিবার মনু নদের পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, একাধিক মাঝারি, ছোট ও বড় আকারের গাছে ফুটেছে কদম ফুল। সকালের নির্মল ঝকমক করা আলোয় এই ফুলগুলো অনেক উজ্জ্বল রূপ নিয়ে হেসে উঠেছে। হলুদ-সাদা ফুলে ফুলে ডালগুলো নুয়ে এসেছে। ফুটন্ত ফুলগুলোয় হাজারো মৌমাছি ভিড় করেছে। শুধু যে মনু নদের পাড়েই কদম ফুটেছে, এমন নয়; মৌলভীবাজার পৌরসভার পুকুরপাড়ের দুটি গাছেও অনেক কদম ফুল ফুটেছে। মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠের উত্তর পাশে সৈয়দ মুজতবা আলী সড়কেও একটি গাছে ঝুলছে কদম ফুল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কদম গাছের বৈশিষ্ট্য

কদম দীর্ঘাকৃতি, বহুশাখী গাছ। কদমের কাণ্ড সরল, উন্নত, ধূসর থেকে প্রায় কালো। গাছে অজস্র শাখা থাকে, যা মাটির সমান্তরালে প্রসারিত। পাতা বিরাট, ডিম্বাকৃতি, উজ্জ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে এবং বিন্যাসে বিপ্রতীপ। নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য কদম ছায়াঘন একটি গাছ। এটি পথতরু হিসেবে পথিকের ছায়ার আশ্রয়। তবে ঝড়ঝাপটা সইতে কদম অতটা সবল নয়। শীত হচ্ছে পাতা ঝরার দিন। বসন্তে কচি পাতা গজায়। সাধারণত পরিণত পাতা অপেক্ষা কচি পাতা অনেকটা বড়। কদমের কচি পাতার রং হালকা। কদমের মঞ্জরি অনন্য সুন্দর।

সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

বৈষ্ণব ঐতিহ্যে রাধা-কৃষ্ণের প্রিয় কদমতরু কাব্য, সংগীত, চিত্র—সবকিছুতেই উল্লেখ আছে। তেমনি এই গাছের পূজার রীতিও হিন্দুসমাজে প্রচলিত। মন্দির, বিশেষত বৈষ্ণবদের আখড়ায় কদমগাছ লাগানো হয়ে থাকে। ভারতীয় উপমহাদেশের উষ্ণ অঞ্চল, চীন ও মালয় কদমের আদি নিবাস।