মোহাম্মদপুরে ইয়াবা কারবারের দ্বন্দ্বে আসাদুল হক খুন, ছয়জন গ্রেপ্তার
ইয়াবা দ্বন্দ্বে আসাদুল হক খুন, মোহাম্মদপুরে ছয়জন গ্রেপ্তার

মোহাম্মদপুরে ইয়াবা কারবারের দ্বন্দ্বে আসাদুল হক খুন, ছয়জন গ্রেপ্তার

মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজারের সাদেক খান ইটখোলা এলাকায় ইয়াবা কারবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব, হামলা-পাল্টা হামলা, মামলা ও জামিনের পরও সংঘাত থামেনি। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

দ্বন্দ্বের পটভূমি ও হত্যাকাণ্ড

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আসাদুল হক কয়েক বছর ধরে ইটখোলা এলাকায় ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে বিরোধ বাঁধে স্থানীয় আরেক মাদক কারবারি মো. আকতার হোসেনের সঙ্গে। এই দ্বন্দ্বের জেরেই গত বুধবার গভীর রাতে আসাদুলকে ফোন করে ডেকে এনে হত্যা করা হয়।

দিবাগত রাত একটার দিকে সাদেক খান ইটখোলা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আসাদুলের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আসাদুল মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ে থাকতেন। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গত এক সপ্তাহে রায়েরবাজার এলাকায় এটি দ্বিতীয় খুনের ঘটনা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তার ও মামলা

ঘটনার পর পুলিশ ও র‍্যাব আলাদা অভিযান চালিয়ে নিহত আসাদুলের প্রতিপক্ষ আকতার হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত আসাদুলের চাচাতো বোন অঞ্জু আক্তার বাদী হয়ে মামলা আকতার হোসেনসহ নয়জনকে আসামি করে গত শুক্রবার মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্রমতে, আকতার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজেকে শ্রমিক দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন এবং মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সদস্যসচিব হিসেবে পোস্টার লাগিয়েছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বন্দ্বের ইতিহাস ও পুলিশের তৎপরতা

এই হত্যাকাণ্ড হঠাৎ ঘটেনি; এর পেছনে রয়েছে পুরোনো দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ে ইটখোলা এলাকায় আকতারকে কুপিয়ে জখম করেছিলেন আসাদুল। ওই ঘটনায় আসাদুলসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা হয় এবং আসাদুল গ্রেপ্তার হলে অল্পদিনের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আসেন। তবে এরপর তিনি আর আগের মতো এলাকায় মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানান, গত বছর আসাদুল জেলে যাওয়ার পর থেকে ইটখোলা এলাকায় ইয়াবা কারবারের পুরো নিয়ন্ত্রণ আকতার হোসেনের হাতে চলে যায়। সন্ধ্যার পর ইটখোলার পাশের টিনের খুপরিতে ইয়াবা সেবনের আসর বসত এবং আকতারের সহযোগীরা কেনাবেচার কাজ করতেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় মাদক বেচাকেনার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অজানা থাকার কথা নয়। একজন দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পুলিশ সবই জানে, ব্যবস্থা নেয় না।’

পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও চলমান তদন্ত

তবে পুলিশ দাবি করছে, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। মেজবাহ উদ্দিন বলেন, মোহাম্মদপুর আগে থেকেই অপরাধপ্রবণ এলাকা এবং প্রতিনিয়ত অভিযান চলছে। গত মার্চ মাসে বিভিন্ন অপরাধে ৬৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। আসাদুল হত্যার আসামিদের ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ছয়জন হলেন আকতার হোসেন (৪৫), মো. মুন্না (২৪), মিরাজ ফকির (২২), মো. নয়ন ওরফে খোকন (২৪), মো. আসাদুল ইসলাম (২৫) ও মো. শাওন (২৭)। থানা-পুলিশ সূত্র বলছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে গ্রেপ্তার ছয়জনকেই দেখা গেছে এবং তাঁদের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা জানান, গ্রেপ্তার ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বেই আসাদুলকে খুন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।