ঝিকরগাছায় ফুল চাষির ওপর হামলা, পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা গ্রামে ফুল খেতে কাজ করার সময় আব্দুর রহিম নামে এক চাষিকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
গত সোমবার বিকেলে পানিসারা গ্রামে আব্দুর রহিম নিজের গাঁদা ফুলের খেতে কাজ করছিলেন। এই সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার পাইপ ও কাঠের বাট দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে, যার ফলে তিনি রক্তাক্ত জখম হয়ে খেতেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আব্দুর রহিম বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আঘাতের কারণে আজ বুধবার মাথায় সিটি স্ক্যান করার জন্য তাঁকে যশোর শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ-আমেরিকা মৈত্রী ফুল বিপণনকেন্দ্রের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
মামলা দায়ের ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
হামলার শিকার আব্দুর রহিমের স্ত্রী নাসরিন নাহার ঘটনার দিনই ঝিকরগাছা থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করে মামলার আবেদন করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে নূর হোসেন ওরফে টাইগার, মো. জাহিদ হোসেন, মো. মুরাদ হোসেন ও লুত্ফর হোসেনের নাম রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ব্যক্তিরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
তবে অভিযোগ দায়েরের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো মামলা রেকর্ড করেনি। ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল আলম জানান, আব্দুর রহিমকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে এবং একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি দাবি করেন, অভিযোগ দুর্বল এবং কোনো ধারায় পড়ছে না বলে মামলাটি রেকর্ড করা হয়নি।
হামলার পেছনের রাজনৈতিক প্রভাব
আব্দুর রহিমের দাবি, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ফুলসংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণের অংশগ্রহণ নিয়ে বিএনপি নামধারী কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার জের ধরে তাঁরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা করেন। তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
এদিকে হামলার প্রতিবাদ জানাতে পানিসারা গ্রামের বাসিন্দারা সংগঠিত হলে স্থানীয় সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন গতকাল মঙ্গলবার আরও দুজনকে পিটিয়ে আহত করেন। আহত হৃদয় হোসেন ও আসাদুল ইসলামকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পুলিশের দ্রুত মামলা নেওয়া ও তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হচ্ছে।



