লাতিন আমেরিকার মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের মাসব্যাপী অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৬ জুন) পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই হামলায় একজন নিহত হয়েছে এবং বাকি দুজন বেঁচে গেছেন।
নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০৮
গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন যাদের ‘নার্কোটেররিস্ট’ (মাদক সন্ত্রাসী) হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, তাদের লক্ষ্য করে এই অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বোট স্ট্রাইকে (নৌযানে হামলা) নিহতের সংখ্যা এখন কমপক্ষে ২০৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
হামলার বিবরণ
ইউ.এস. সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, তারা পরিচিত চোরাচালান রুট ধরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে নৌযানটিতে আসলেই মাদক পরিবহণ করা হচ্ছিল কিনা, সে বিষয়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি নৌযান পানিতে চলার সময় হামলার শিকার হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা আগুনে জ্বলে ওঠে। সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, হামলার পর জীবিতদের জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার ব্যবস্থা সচল করতে তারা অবিলম্বে ইউ.এস. কোস্ট গার্ডকে অবহিত করেছে।
ট্রাম্পের অবস্থান
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রগুলোর সঙ্গে ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ লিপ্ত রয়েছে। তিনি এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ বন্ধ করতে এবং মারাত্মক ওভারডোজ ঠেকাতে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে সমর্থন করেছেন। তবে ‘নার্কোটেররিস্ট’ হত্যার দাবির পক্ষে তার প্রশাসন এখন পর্যন্ত খুব সামান্যই প্রমাণ উপস্থাপন করতে পেরেছে।
সমালোচনা ও আইনি প্রশ্ন
সমালোচকরা এই বোট স্ট্রাইকগুলোর সামগ্রিক বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, অনেক প্রাণঘাতী ওভারডোজের পেছনে থাকা ফেন্টানিল সাধারণত মেক্সিকো থেকে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হয়, যা মূলত চীন ও ভারত থেকে আমদানিকৃত রাসায়নিক দিয়ে মেক্সিকোতে তৈরি করা হয়।
এই হামলাগুলো কয়েকজন ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা ও সামরিক আইন বিশেষজ্ঞদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রথম হামলায় নয়জন নিহত হওয়ার পর দুইজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি নৌকার ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে ভাসছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে সেই ধ্বংসাবশেষ লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়, যার ফলে তারা মারা যান।
হোয়াইট হাউস এই দ্বিতীয় হামলার কথা স্বীকার করে জোর দিয়ে বলেছে, এটি ‘আত্মরক্ষার্থে’ এবং নৌকাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই করা হয়েছিল। তবে কিছু আইনি বিশেষজ্ঞ বলেছেন, পরিস্থিতি সশস্ত্র সংঘাতের হোক বা না হোক, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর দ্বিতীয়বার হামলা চালিয়ে হত্যা করা যেকোনো পরিস্থিতিতেই সম্পূর্ণ অবৈধ।



