সীতাকুণ্ডে হোটেলে হামলা ও মব তৈরির অভিযোগে ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন
সীতাকুণ্ডে হোটেলে হামলা, মব তৈরির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সীতাকুণ্ডে হোটেলে হামলা ও মব তৈরির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরের একটি আবাসিক হোটেলে হানা দিয়ে নারীসহ দুই পর্যটককে হেনস্তা, মব তৈরি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির মানহানি করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদসহ দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আজ শনিবার দুপুরে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলেন সীতাকুণ্ড পৌর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির নেতারা।

ঘটনার বিবরণ ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন রফিক বলেন, ৬ এপ্রিল বিকেলে আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক পরিকল্পিতভাবে হোটেল সাইমন আবাসিকে হামলা চালান। এ সময় তাঁরা হোটেলে ঢুকে ১০৩ নম্বর কক্ষে থাকা এক দম্পতিকে হেনস্তা করেন এবং প্রতিবন্ধী হোটেল ম্যানেজারকেও মারধর করেন। খবর পেয়ে ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা ওই আবাসিক হোটেলে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

এর পর থেকে চক্রটির সদস্যরা সমিতির সভাপতি নাছির উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর পোস্ট দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ডে আগেও সাংবাদিককে মারধর ও বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পর্যটন শিল্পে প্রভাব ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সীতাকুণ্ডে গভীর রাতে ট্রেন কিংবা বাস থেকে পর্যটকেরা নামার পর ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির কারণে দিন দিন পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ছে সীতাকুণ্ড। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হোটেলমালিক ছাড়া ছোট ছোট দোকান, যানবাহনসহ পর্যটন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাত্রনেতার প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্য

জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, তিনি বর্তমানে জাতীয় ছাত্রশক্তির সীতাকুণ্ড উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ছাড়া ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের সভাপতি। আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন। সম্প্রতি তাঁরা হোটেলগুলোয় অসামাজিক কার্যকলাপের খবর পান। একাধিকবার বিষয়টি থানা–পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ আসার আগেই অপকর্মকারীরা হোটেল ত্যাগ করেন।

৬ এপ্রিল অসামাজিক কার্যকলাপ করতে আসা এক নারী ও পুরুষের হোটেলে অবস্থানের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা থানা–পুলিশকে জানান। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের হোটেলে নজরদারির কথা বলা হয়। এ কারণেই তাঁরা হোটেলে থাকা ওই অপকর্মকারী ব্যক্তিদের ধরার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন আসাদুজ্জামান আসাদ।

পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আবাসিক হোটেলে হামলার বিষয়ে হোটেলের মালিকপক্ষ একটি অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন তাঁরা। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া গভীর রাতে পর্যটকদের ছিনতাইয়ের বিষয়টি তাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখবেন। ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির মানহানির বিষয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।